
কুমিল্লায় নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর লাকসাম এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনার পর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে এবং বর্তমানে তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পুলিশি হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগীর দায়ের করা মামলায় জিসান মিয়া প্রধানকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ, প্রতারণা এবং জোরপূর্বক ভ্রূণ নষ্ট করার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। যদিও তদন্ত চলমান থাকায় এ বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কোনো চূড়ান্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
শুক্রবার রাতে কুমিল্লা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জিসান মিয়াকে কেউ অপহরণ করেনি। বরং প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন। পুলিশ দাবি করছে, ঘটনাটির সঙ্গে অপহরণের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
শনিবার দুপুরে কুমিল্লার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মামলার পর জিসান মিয়া প্রধানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অভিযুক্ত জিসান মিয়া প্রধান ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন বলে জানা গেছে। এছাড়া তিনি কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি ছিলেন। ঘটনার পর সংগঠনের পক্ষ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলেও তথ্য পাওয়া গেছে।
দাউদকান্দি মডেল থানার তদন্ত কর্মকর্তা সামছুল আলম বলেন, প্রাথমিক তদন্তে অপহরণের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। বরং ব্যক্তিগত ও প্রতারণামূলক একটি ঘটনার জের ধরে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।
এদিকে পুরো ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন, আবার কেউ বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে দেখছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় তদন্তে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সকল তথ্য যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বর্তমানে জিসান মিয়া প্রধান চিকিৎসাধীন অবস্থায় পুলিশের হেফাজতে আছেন। আদালতে উপস্থাপন ও রিমান্ড সংক্রান্ত বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে।
এই ঘটনায় কুমিল্লার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তদন্ত শেষ হলে পুরো ঘটনার প্রকৃত সত্যতা স্পষ্ট হবে বলে আশা করছে প্রশাসন।