
বলিউড সুপারস্টার সালমান খান তার বিরুদ্ধে নির্মিতব্য একটি সিনেমা ঘিরে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন। ১৯৯৮ সালের বহুল আলোচিত কৃষ্ণসার হরিণ শিকার মামলা নিয়ে তৈরি হওয়া ‘কালা হিরন : দ্য ব্যাটেল ফর লেগাসি’ সিনেমাটির প্রদর্শন ও প্রচারণা বন্ধের আবেদন জানিয়ে তিনি দিল্লি হাইকোর্টে মামলা করেছেন।
সালমান খানের অভিযোগ, সিনেমাটিতে তার ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা হচ্ছে এবং তার পূর্ববর্তী মামলাকে কেন্দ্র করে এমনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে যা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।
শুক্রবার (১২ জুন) শুনানিতে দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি নীনা বানসাল কৃষ্ণার বেঞ্চ সিনেমাটির প্রযোজক অমিত জানি এবং অক্ষয় পান্ডেসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ জারি করেন। একই সঙ্গে মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ ১৯ জুন নির্ধারণ করা হয়েছে।
আদালতে সালমান খানের পক্ষে আইনজীবী দয়ান কৃষ্ণান যুক্তি তুলে ধরে বলেন, সিনেমাটি মূলত সালমানের পুরনো কৃষ্ণসার হরিণ শিকার মামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্মিত হচ্ছে, যা আদালতের পূর্ববর্তী নির্দেশনার পরিপন্থী। সেই নির্দেশনায় অভিনেতার ব্যক্তিত্ব অধিকার সুরক্ষার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল বলে দাবি করা হয়।
মামলার নথিতে বলা হয়েছে, ‘কালা হিরন : দ্য ব্যাটেল ফর লেগাসি’ সিনেমার টিজারে এমন একটি চরিত্র দেখানো হয়েছে, যা সরাসরি সালমান খানের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। বিশেষ করে চরিত্রটির চেহারা, আচরণ এবং উপস্থাপনায় অভিনেতার পরিচিত বৈশিষ্ট্যের মিল রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
সালমানের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়, টিজারে একটি চরিত্রকে নীল ব্রেসলেট পরা অবস্থায় দেখানো হয়েছে, যা সালমান খানের ব্যক্তিগত স্টাইলের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। এতে সাধারণ দর্শকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, অস্ত্র আইনের মামলায় সালমান খান আদালত থেকে খালাস পেলেও সিনেমাটির মাধ্যমে সেই অতীত ঘটনাকে আবারও জনসমক্ষে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যা তার ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
সালমান খান দাবি করেছেন, গত ২৪ এপ্রিল প্রযোজকদের কাছে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সেই নোটিশ উপেক্ষা করে সিনেমার প্রচারণা অব্যাহত রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে প্রযোজক পক্ষের আইনজীবী আদালতে জানান, সম্প্রতি সিনেমাটির টিজার প্রকাশ করা হয়েছে, তবে এখনো ছবির মুক্তির তারিখ চূড়ান্ত হয়নি। তিনি বলেন, শুধু টিজার প্রকাশের ভিত্তিতে সিনেমার প্রচারণা বা মুক্তি বন্ধের আবেদন অযৌক্তিক।
এই মামলাকে ঘিরে বলিউডে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ব্যক্তিত্ব অধিকার (personality rights), সৃজনশীল স্বাধীনতা এবং বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মাণের সীমারেখা নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের মামলাগুলো ভবিষ্যতে সিনেমা নির্মাণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে। কারণ বাস্তব ঘটনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি চলচ্চিত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্মতি ও উপস্থাপনা একটি বড় আইনি প্রশ্ন হিসেবে দাঁড়ায়।
এখন সবার নজর ১৯ জুনের পরবর্তী শুনানির দিকে, যেখানে আদালত ‘কালা হিরন’ সিনেমার ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত দিতে পারে।