
দেশব্যাপী পরিবেশ রক্ষায় একটি বৃহৎ উদ্যোগ হিসেবে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। কক্সবাজারের পিএমখালীর ডুলাহাজারার মালুমঘাট সংরক্ষিত বনে একটি গর্জন গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে এ কর্মসূচির সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ অন্যান্য মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তারা একসঙ্গে ১১ প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করেন।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিবেশ রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলার লক্ষ্যে এই কর্মসূচি আগামী পাঁচ বছরে বাস্তবায়ন করা হবে। দেশের বনভূমি সম্প্রসারণ, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।
জানা গেছে, সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল—ক্ষমতায় এলে পাঁচ বছরে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করা হবে। সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এই প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকবে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে দেশের ৪৯টি জেলার ১৪৯টি উপজেলায় প্রায় দেড় কোটি চারা রোপণ করা হবে। পর্যায়ক্রমে এই কার্যক্রম সারাদেশে সম্প্রসারিত হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশে বৃহৎ আকারে বৃক্ষরোপণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকি এবং শহরাঞ্চলে তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এ ধরনের উদ্যোগ পরিবেশগত স্থিতিশীলতা আনতে সহায়ক হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বৃক্ষ শুধু পরিবেশ রক্ষা করে না, এটি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব এবং জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো হবে।
কর্মসূচির উদ্বোধনকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। পরিবেশবিদরা এটিকে ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন, তবে তারা দীর্ঘমেয়াদে রোপিত গাছের সঠিক পরিচর্যা ও টিকে থাকার হার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
সব মিলিয়ে, এই ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাংলাদেশের পরিবেশ নীতি ও জলবায়ু অভিযোজন কৌশলে একটি বড় ধরনের পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।