
দিনাজপুরে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের একটি ঝটিকা মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার (১৩ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রায় ২ মিনিট ৩ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের ভিডিওটি ফেসবুকে ভাইরাল হয়।
ভিডিওটি একটি ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্ট অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে প্রচার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পরপরই এটি বিভিন্ন ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট ও পেজে দ্রুত শেয়ার হতে থাকে, ফলে বিষয়টি আরও বেশি নজর কাড়ে।
ভিডিওতে দেখা যায়, দিনাজপুর জেলা ছাত্রলীগের সদস্য ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ফেরদৌস আলমের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জন নেতাকর্মী মিছিলে অংশ নিচ্ছেন। তারা মুখে মাস্ক এবং মাথায় সাদা টুপি পরে একটি ব্যানার নিয়ে মিছিল করেন।
মিছিলের ব্যানারে একাধিক রাজনৈতিক দাবি ও স্লোগান লেখা ছিল। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল— ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর নিষেধাজ্ঞা মানি না, মানব না’, ‘আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগসহ সকল সহযোগী সংগঠনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে’, ‘পুলিশ হত্যার বিচার চাই’ এবং ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও বিক্ষোভ মিছিল’।
ভিডিওতে আরও শোনা যায় বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান। যেমন— ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’, ‘শেখ হাসিনার ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’ এবং ‘চলছে লড়াই, চলবে; ছাত্রলীগ লড়বে’।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই ঝটিকা মিছিলটি দিনাজপুর শহরের মির্জাপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সড়কে অনুষ্ঠিত হয়। সময় ছিল শনিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অনেকেই এটিকে পরিকল্পিত রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
এদিকে ভিডিও প্রসঙ্গে জানতে চাইলে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর নবী বলেন, “বিষয়টি আমাদের জানা নেই।” তবে ভিডিওটির সত্যতা ও সময়-স্থান যাচাইয়ে পুলিশ তদন্ত করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ধরনের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা। বিশেষ করে নিষিদ্ধ বা বিতর্কিত সংগঠনের কার্যক্রম প্রকাশ্যে আসার বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্যও চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
তবে এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ বা গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া যায়নি। ভিডিওটি যাচাই-বাছাই শেষে প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।