
বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, দেশের শিক্ষাকে ধাপে ধাপে মালয়েশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষাব্যবস্থার মানদণ্ডে উন্নীত করার জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
গতকাল শুক্রবার চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আয়োজনে স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবন ধারণা প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তিনি বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তনের দিকগুলো তুলে ধরেন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে টিকে থাকতে হলে কেবল পাঠ্যপুস্তকভিত্তিক শিক্ষা যথেষ্ট নয়। এজন্য বাংলাদেশে ধীরে ধীরে ইনোভেশনভিত্তিক, স্টার্টআপভিত্তিক এবং প্রজেক্টভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, “আমরা আগে যে ধরনের মুখস্থনির্ভর শিক্ষা গ্রহণ করেছি, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা সেটি থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।”
তিনি আরও বলেন, দেশের বিশাল জনসংখ্যাকে মানবসম্পদে রূপান্তর করা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের মাধ্যমে আগামীর স্মার্ট বাংলাদেশ গঠন করা সম্ভব হবে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দও বাড়ানো হয়েছে বলে তিনি জানান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান রাসেল। প্রদর্শনীতে উপজেলার ২৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে এবং মোট ২৯টি উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপন করা হয়। এসব প্রকল্পে শিক্ষার্থীরা তাদের বিজ্ঞানভিত্তিক চিন্তা, প্রযুক্তি ব্যবহার এবং বাস্তব সমস্যা সমাধানের নানা ধারণা তুলে ধরে।
প্রতিযোগিতা শেষে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিজয়ীদের মধ্যে ক্রেস্ট ও সনদ বিতরণ করা হয়। এতে প্রথম স্থান অর্জন করে কচুয়া সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয়। দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে রহিমানগর বিএবি উচ্চবিদ্যালয় এবং তৃতীয় স্থান লাভ করে গুলবাহার সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু নাছির, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তপু আহমেদ, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সাওকাত হোসেন সুমন, ভারপ্রাপ্ত উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আলী আশরাফ, কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজিজুল ইসলাম আকাশসহ বিভিন্ন শিক্ষক, সুধীজন ও আমন্ত্রিত অতিথিরা।
শিক্ষামন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থায় উদ্ভাবনই মূল চালিকাশক্তি। তাই শিক্ষার্থীদের শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল নয়, বরং নতুন চিন্তা, সমস্যা সমাধান এবং প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা অর্জনে উৎসাহিত করতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগ ভবিষ্যতে বাংলাদেশের তরুণদের বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়াবে এবং দেশকে উন্নত অর্থনীতির পথে এগিয়ে নেবে।