
বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের অধীন অধস্তন আদালতে আইনজীবী তালিকাভুক্তির প্রথম ধাপের এমসিকিউ পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে উত্তীর্ণ হয়েছেন ব্যারিস্টার Jaima Rahman।
শুক্রবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া একটি স্টোরির মাধ্যমে তিনি এই সফলতার বিষয়টি নিশ্চিতযুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ-সংক্রান্ত একটি মামলায় সাবেক ফেডারেল প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসির শৃঙ্খলাবিষয়ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাবেক প্রসিকিউটর Jennifer Kirkhoff Muyskens-কে ছয় মাসের জন্য আইন পেশা থেকে সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালের ২০ জানুয়ারি তৎকালীন প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর অভিষেক অনুষ্ঠানের সময় ওয়াশিংটনে বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়। ওই ঘটনায় দোকান ভাঙচুর, সড়ক অবরোধ এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের অভিযোগে শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, মুইস্কেন্স ওই মামলাগুলোর প্রধান ফেডারেল প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং আদালতে কিছু ভিডিও প্রমাণ উপস্থাপন করেন, যেগুলো সম্পাদিত (edited) ছিল বলে দাবি করা হচ্ছে। অভিযোগে বলা হয়, ভিডিওর কিছু অংশ বাদ দেওয়ায় বিক্ষোভকারীদের শান্তিপূর্ণ আচরণের দৃশ্য আদালতে উপস্থাপিত হয়নি, ফলে ঘটনাকে দাঙ্গা পরিকল্পিত হিসেবে উপস্থাপন করা সহজ হয়।
ডিসি বোর্ড অন প্রফেশনাল রেসপন্সিবিলিটি তাদের ১০৫ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে জানিয়েছে, প্রস্তাবিত তিন মাসের স্থগিতাদেশ যথেষ্ট নয়। তাদের মতে, এটি ছিল গুরুতর, ইচ্ছাকৃত এবং দীর্ঘস্থায়ী আচরণ, যা বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
তবে মুইস্কেন্স সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগে কোনো ষড়যন্ত্র বা ইচ্ছাকৃত অসদাচরণের প্রমাণ নেই। তিনি আরও জানান, শৃঙ্খলাজনিত এই মামলার কারণে তিনি উটাহে ফেডারেল প্রসিকিউটরের পদ থেকে সরে দাঁড়ান এবং পরে আইন পেশা থেকেও দূরে চলে যান।
বোর্ডের সুপারিশ এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য ডিসি আপিল আদালতে পাঠানো হবে। আদালত চূড়ান্ত রায় দিলে তার আইন পেশার ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার ব্যবস্থায় প্রসিকিউটরদের নৈতিকতা ও প্রমাণ ব্যবহারের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। করেন। তিনি লেখেন, “আলহামদুলিল্লাহ, আমি আপনাদের সঙ্গে একটি ব্যক্তিগত সাফল্য শেয়ার করতে চাই। আজ বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের এমসিকিউ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে আল্লাহর রহমতে উত্তীর্ণ হয়েছি।”
এর আগে একই দিনে সকালবেলায় ১০০ নম্বরের এই এমসিকিউ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। দেশের বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে হাজারো প্রার্থী এতে অংশ নেন। ফলাফল প্রকাশ করা হয় একই দিন রাতে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ওয়েবসাইটে।
বার কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, এবারের পরীক্ষায় মোট ৩৭ হাজার ৮০ জন প্রার্থী অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে ৯ হাজার ২০১ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন।
উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মধ্যে জাইমা রহমান বিএএফ শাহীন কলেজ কেন্দ্র থেকে পরীক্ষায় অংশ নেন বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া তিন ধাপে সম্পন্ন হয়। প্রথম ধাপে এমসিকিউ পরীক্ষা, দ্বিতীয় ধাপে লিখিত পরীক্ষা এবং তৃতীয় ধাপে মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। তিনটি ধাপেই সফল হলে প্রার্থীরা আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির সুযোগ পান।
এই ফলাফল প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই পরীক্ষার ফলাফলকে আইন পেশায় নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছেন।