
সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল বলেছেন, দেশের বর্তমান ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও এবারের জাতীয় বাজেট সবচেয়ে জনবান্ধব হিসেবে প্রণয়ন করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, সরকার চেষ্টা করেছে যাতে এই বাজেট সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত থাকে।
শুক্রবার সকালে নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলায় দুঃস্থ মানুষের মাঝে হুইলচেয়ার ও আর্থিক চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। উপজেলা চত্বরে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা খুবই কঠিন। এই পরিস্থিতিতে বাজেট প্রণয়ন করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। তবুও সরকার চেষ্টা করেছে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য, বিশেষ করে এমন খাতে যেখানে সরাসরি মানুষের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়টি জড়িত। তিনি উল্লেখ করেন, বড় বড় প্রকল্পের চেয়ে এবার মূল গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা সহজ করার দিকে।
তিনি আরও বলেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় যেসব সহায়তা দেওয়া হয়, তার পরিমাণও বৃদ্ধি করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, আগে ক্যান্সার রোগীদের জন্য ৫০ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হতো, যা এখন বাড়িয়ে এক লাখ টাকা করা হয়েছে। তার মতে, এই ধরনের সিদ্ধান্তগুলো সরাসরি অসহায় ও দুর্বল জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানোর একটি প্রচেষ্টা।
কর্মসংস্থানের প্রসঙ্গ টেনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে কাজ করছে। তিনি মনে করেন, কর্মসংস্থান বাড়লে সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী হবে এবং দারিদ্র্য হ্রাস পাবে।
বাজেট নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলের সমালোচনার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন দলের ভিন্ন মত থাকতে পারে, এটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অংশ। তবে বাজেট বাস্তবায়নের পরই বোঝা যাবে এটি কতটা জনকল্যাণমুখী হয়েছে। তার মতে, সরকারের লক্ষ্য হলো বাজেটের প্রতিটি টাকা যেন জনগণের উন্নয়নে ব্যবহার হয় এবং এর সুফল সাধারণ মানুষ পায়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জানান, দুঃস্থ ও প্রতিবন্ধী মানুষের সহায়তায় সরকার নিয়মিতভাবে বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি পরিচালনা করছে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
সব মিলিয়ে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে এবারের বাজেটকে একটি সংকটকালীন বাস্তবতায় নেওয়া জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে মূল লক্ষ্য হচ্ছে সামাজিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য সহায়তা সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান তৈরির মাধ্যমে অর্থনৈতিক চাপ কিছুটা লাঘব করা।