
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসী আয়ের ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। চলতি জুন মাসের প্রথম ১০ দিনেই দেশে এসেছে ১২০ কোটি ৩১ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহকে আরও শক্তিশালী করেছে।
শুক্রবার (১২ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানান। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, জুনের প্রথম ১০ দিনে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২ কোটি ৩ লাখ ডলার দেশে এসেছে।
গত বছরের একই সময়ের সঙ্গে তুলনা করলে রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ২০২৫ সালের জুন মাসের প্রথম ১০ দিনে দেশে এসেছিল ৯৫ কোটি ৬১ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার। সেই তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু থেকে ১০ জুন পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩ হাজার ৩৯৫ কোটি ৯৯ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এ প্রবৃদ্ধির হার ১৯ দশমিক ৩১ শতাংশ বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতেও রেমিট্যান্স প্রবাহ ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। গত মে মাসে দেশে আসে ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার, যা দেশের ইতিহাসে একক মাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
এর আগে এপ্রিল মাসে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ মার্কিন ডলার। আর মার্চ মাসে আসে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে একক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহের রেকর্ড গড়ে।
এ ছাড়া জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতেও ৩০০ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। ডিসেম্বর, নভেম্বর, অক্টোবর, সেপ্টেম্বর, আগস্ট এবং জুলাই মাসেও ধারাবাহিকভাবে উচ্চমাত্রার প্রবাসী আয় দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের ব্যবহার বৃদ্ধি, প্রণোদনা সুবিধা এবং বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের আয়ের স্থিতিশীলতা রেমিট্যান্স বৃদ্ধির পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রবাসী আয় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করার পাশাপাশি আমদানি ব্যয় মেটানো, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে মোট ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স আসে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো একক অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হয়। চলতি অর্থবছরের প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলে নতুন রেকর্ড গড়ার সম্ভাবনাও দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।