
আফ্রিকার পশ্চিম উপকূলে অভিবাসনপ্রবণ সমুদ্রপথে আবারও মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। গাম্বিয়ার উপকূলে দুই শতাধিক অভিবাসী বহনকারী একটি নৌকা ডুবে অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও বহু যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) মধ্যরাতের দিকে গাম্বিয়ার নর্থ ব্যাংক অঞ্চলের একটি উপকূলীয় গ্রামের কাছাকাছি এলাকায় নৌকাটি হঠাৎ উল্টে যায়। গাম্বিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নৌকাটিতে ২০০ জনের বেশি অভিবাসী ছিলেন। এখন পর্যন্ত অন্তত ৯৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে উদ্ধারকৃতদের অনেকেই গুরুতর আহত অবস্থায় রয়েছেন এবং তাদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
গাম্বিয়ান নৌবাহিনী জানিয়েছে, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর মধ্যরাতের পরপরই একাধিক নৌবাহিনীর জাহাজ উদ্ধার কাজে মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি একটি স্থানীয় মাছ ধরার নৌকাও উদ্ধার অভিযানে সহায়তা করে। পরে ডুবে যাওয়া নৌকাটিকে কাছাকাছি একটি বালুচরে আটকে থাকতে দেখা যায়।
নিহত সাতজনের মধ্যে কয়েকজন গাম্বিয়ার নাগরিক নন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তাদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে। নিখোঁজদের সংখ্যা নিশ্চিত না হলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে, সমুদ্রে তীব্র স্রোতের কারণে অনেকেই ভেসে গেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম আফ্রিকা থেকে ইউরোপে পৌঁছাতে ইচ্ছুক অভিবাসী ও আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য গাম্বিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ যাত্রাবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এখান থেকে অনেকে ঝুঁকিপূর্ণ নৌপথে স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন, যা ইউরোপে প্রবেশের অন্যতম প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ৪৬ হাজারের বেশি অভিবাসী ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছেছেন। তবে মানবাধিকার সংস্থা কামিনান্দো ফ্রন্তেরাস জানিয়েছে, একই বছরে আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে ১০ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, যা আগের বছরের তুলনায় ৫৮ শতাংশ বেশি।
অন্যদিকে, ইউরোপীয় সীমান্ত সংস্থা ফ্রন্টেক্সের তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের প্রথম ১১ মাসে পশ্চিম আফ্রিকা রুট দিয়ে ইউরোপে অবৈধ অভিবাসন ৬০ শতাংশ কমেছে। যাত্রার শুরুতেই বিভিন্ন দেশে কঠোর নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার কারণেই এই হ্রাস ঘটেছে বলে সংস্থাটি দাবি করেছে।