
বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে একটি কাঁচা সড়কে অস্থায়ীভাবে ইট বিছানো এবং পরে তা তুলে নেওয়ার ঘটনা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করলেও সাময়িক এ কাজ নিয়ে এখন উঠেছে নানা প্রশ্ন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গাবতলী উপজেলার নশিপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চৌকির খাল হয়ে প্রধানমন্ত্রীর পৈতৃক ভিটা বাগবাড়ী পর্যন্ত প্রায় ৫০০ মিটার কাঁচা সড়ক পাকাকরণের জন্য গত অর্থবছরে ৮৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে নির্ধারিত সময়েও সড়কের স্থায়ী কাজ শুরু হয়নি।
এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে ওই কাঁচা সড়কে দ্রুতগতিতে অস্থায়ীভাবে ইট বিছানো হয়, যাতে যাতায়াত সহজ হয়। তবে সফর শেষ হওয়ার পরপরই সেই ইট আবার তুলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এতে বর্ষার সময় সড়কটি আগের অবস্থায় ফিরে গিয়ে সাধারণ মানুষের চলাচলে ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাময়িকভাবে ইট বিছানোর পর তারা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছিলেন, কিন্তু পরে ইট তুলে নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। এখন কাদা ও ভাঙা রাস্তার কারণে চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে এলজিইডির বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, সড়কটি পাকাকরণের জন্য বরাদ্দ আগে থেকেই অনুমোদিত ছিল। অস্থায়ীভাবে ইট বিছানো হয়েছিল ঠিকাদারকে দিয়ে এবং পরে তা তুলে নেওয়া হয়েছে, কারণ এটি স্থায়ী নির্মাণ ছিল না। তিনি আরও দাবি করেন, ইট ভাড়া নিয়ে সোলিং করা হয়েছিল যাতে ব্যয় নিয়ন্ত্রণে থাকে।
অন্যদিকে স্থানীয় পর্যায়ে ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, দ্রুত অস্থায়ী কাজ করে পরে তা তুলে নেওয়া হলেও প্রকল্প ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।
সুশাসনের জন্য প্রশাসন (সুপ্র) বগুড়ার নেতারা বলছেন, দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর একই প্রকল্পে বারবার অস্থায়ী ব্যয় দেখানো অনিয়মের শামিল হতে পারে এবং এতে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় হয়েছে কি না তা তদন্ত করা প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে বাগবাড়ীর এই সড়ক ঘিরে উন্নয়ন কাজের গতি, স্বচ্ছতা এবং পরিকল্পনা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন ও অসন্তোষ বাড়ছে।