
ক্লোজআপ ওয়ান তারকা হিসেবে সংগীতাঙ্গনে যাত্রা শুরু করা লোকগানের জনপ্রিয় শিল্পী সালমা আক্তার ক্যারিয়ারে পেয়েছেন খ্যাতি, শ্রোতার ভালোবাসা এবং আর্থিক সাফল্য। তবে মঞ্চের আলোঝলমলে জীবনের আড়ালে তার ব্যক্তিগত জীবন ছিল নানা টানাপোড়েনে ভরা—এমনটাই উঠে এসেছে বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য ও তার নিজের বক্তব্যে।
সালমা মূলত লোকগান ও আধুনিক ধারার গানে পরিচিতি পান। “ও কি বানাইয়া বন্ধুরে একটা মাদুলি”সহ একাধিক জনপ্রিয় গানের মাধ্যমে তিনি দেশের সংগীতপ্রেমীদের কাছে পরিচিত নাম হয়ে ওঠেন। নিয়মিত স্টেজ শো, টেলিভিশন অনুষ্ঠান ও রেকর্ডিংয়ের মাধ্যমে তার পেশাগত জীবন ছিল ব্যস্ত ও সফল।
তবে ব্যক্তিগত জীবনে স্থিতিশীলতা ধরে রাখা তার জন্য সহজ হয়নি। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সালমার প্রথম দাম্পত্য জীবন শুরু হয় দিনাজপুরের সংসদ সদস্য শিবলী সাদিকের সঙ্গে। সে সম্পর্ক পরবর্তীতে ভেঙে যায়। বিচ্ছেদের কারণ নিয়ে দু’পক্ষই প্রকাশ্যে খুব বেশি কথা বলেননি, ফলে বিষয়টি নিয়ে নানা সময় আলোচনা হলেও নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ বা সিদ্ধান্তমূলক তথ্য সামনে আসেনি।
পরবর্তীতে সালমা দ্বিতীয়বার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন আইনজীবী সানাউল্লা নুরের সঙ্গে। এই সংসারও দীর্ঘস্থায়ী হলোনা। কিছুদিন পর সেই সম্পর্কেরও বিচ্ছেদ ঘটে বলে গণমাধ্যমে জানা যায়। দ্বিতীয় বিচ্ছেদের ক্ষেত্রেও সালমা প্রকাশ্যে কাউকে দায়ী করেননি এবং ব্যক্তিগত বিষয় হিসেবে তা সীমিত রাখার চেষ্টা করেছেন।
একাধিক সাক্ষাৎকারে সালমা ইঙ্গিত দিয়েছেন, পেশাগত ব্যস্ততা, মানসিক চাপ এবং জীবনধারার পার্থক্য অনেক সময় সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলে। তিনি বলেছেন, জনপ্রিয়তার সঙ্গে ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য রক্ষা করা সহজ নয়, বিশেষ করে একজন নারী শিল্পীর ক্ষেত্রে।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের বিনোদন জগতে তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন প্রায়ই জনআলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে, যা অনেক সময় সম্পর্কের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করে। সালমার ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম হয়নি।
বর্তমানে সালমা তার সংগীত ক্যারিয়ারেই মনোযোগী। নিয়মিত মঞ্চে গান করছেন এবং নতুন কাজ নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন। ব্যক্তিগত জীবনের অভিজ্ঞতা তাকে আরও পরিণত করেছে বলেই মনে করেন তিনি।
সংগীতাঙ্গনে সফলতার পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনে শান্তি খোঁজাই এখন তার প্রধান লক্ষ্য—এমনটাই তার ঘনিষ্ঠ সূত্র ও সাম্প্রতিক বক্তব্য থেকে বোঝা যায়।