
জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্যে ২০১৯ সালে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে একটি ‘কাউন্সেলর’ পদ সৃষ্টি করা হলেও সাত বছর পরও পদটিতে কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। পুলিশ সদর দপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, এই শূন্যতার কারণে জাতিসংঘের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় ব্যাহত হচ্ছে এবং এর প্রভাব পড়ছে শান্তিরক্ষা মিশনে পুলিশের অংশগ্রহণে।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ পুলিশ ১৯৮৯ সাল থেকে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে কাজ করছে। গত ৩৭ বছরে ২১ হাজার ৮১৬ জন পুলিশ সদস্য বিভিন্ন মিশনে দায়িত্ব পালন করেছেন। একসময় কোনো নির্দিষ্ট সময়ে মিশনে কর্মরত পুলিশের সংখ্যা কখনোই ২৩০–এর নিচে নামেনি। এমনকি ২০১৩ ও ২০১৬ সালে বিশ্বব্যাপী শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী পুলিশ সদস্যদের মধ্যে বাংলাদেশ পুলিশের সংখ্যা ছিল সর্বাধিক। অথচ বর্তমানে কঙ্গো, দক্ষিণ সুদানসহ বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশি পুলিশ সদস্যের সংখ্যা মাত্র ৩৫ জন।
পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, জাতিসংঘের বিভিন্ন দেশের স্থায়ী মিশনে নিয়োজিত পুলিশ কাউন্সেলররা সংশ্লিষ্ট দেশের পুলিশ কন্টিনজেন্ট মোতায়েন, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং ‘ডিপার্টমেন্ট অব পিস অপারেশনস’-এর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশে এ পদটি দীর্ঘদিন খালি থাকায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পুলিশের কার্যক্রম যথাযথভাবে উপস্থাপন করা কঠিন হয়ে পড়ছে। সম্প্রতি একটি শান্তিরক্ষা মিশনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পুলিশের কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিতে না পারায় সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার কথাও জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ থেকে মোট ৪ হাজার ১৪৮ জন সদস্য কর্মরত রয়েছেন, যাদের মধ্যে ৩ হাজার ৯৮৮ জনই সেনাসদস্য। পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী পুলিশ মহাপরিদর্শক এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন জানিয়েছেন, কাউন্সেলর নিয়োগের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে, তবে এখনো নিয়োগ সম্পন্ন হয়নি। তাঁর মতে, এ পদে নিয়োগ হলে জাতিসংঘের সঙ্গে বাংলাদেশ পুলিশের সমন্বয় কার্যক্রম আরও সহজ ও কার্যকর হবে।