
ভারত থেকে বাংলাদেশে ‘পুশইন’ বা লোক ঠেলে পাঠানোর অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বাংলাদেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় একাধিকবার এমন চেষ্টা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নওগাঁ, ঝিনাইদহ, নীলফামারী, নেত্রকোনা, মেহেরপুরসহ বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ দুই শতাধিক মানুষকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তবে বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে এসব মানুষ দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারেনি। কিছু ক্ষেত্রে তাদের সীমান্তের শূন্যরেখা বা নো-ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থান করতে দেখা গেছে।
এর মধ্যে কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্ত ও নওগাঁ জেলার সাপাহার সীমান্তে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। সেখানে বিএসএফের পক্ষ থেকে লোকজন বাংলাদেশে ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও বিজিবি তা প্রতিহত করেছে বলে জানা গেছে।
এ পরিস্থিতি এমন এক সময়ে তৈরি হয়েছে যখন দিল্লিতে বিজিবি ও বিএসএফের মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠক চলছে। ওই বৈঠকে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং বিশেষ করে ‘পুশইন-পুশব্যাক’ ইস্যু গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানা যায়।
বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনার দাবি উঠেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, অবৈধ অভিবাসী চিহ্নিতকরণ ও প্রত্যাবাসনের জন্য দুই দেশের মধ্যে সুস্পষ্ট ও আনুষ্ঠানিক কাঠামো না থাকায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে সীমান্তে মানবিক ও নিরাপত্তাজনিত জটিলতা দেখা দিচ্ছে।
বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্তে তারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং কোনো ধরনের অনিয়মিত প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দারাও কিছু এলাকায় সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি বড় আকার ধারণ করলে এটি দুই দেশের সম্পর্ক ও সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। তাই বিষয়টি সমাধানে নিয়মিত দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পাশাপাশি কার্যকর যৌথ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং বিজিবি-বিএসএফ উভয় পক্ষই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে।