
নির্বাচন ও ভোটার তালিকা প্রণয়ন কার্যক্রমে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের জন্য নতুন আর্থিক সহায়তা নীতিমালা প্রণয়ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন এই নীতিমালার আওতায় দায়িত্ব পালনকালে কেউ মারা গেলে তাঁর পরিবারকে ১০ লাখ টাকা অনুদান প্রদান করা হবে।
বুধবার নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ইসির উপ-সচিব রাশেদুল ইসলামের স্বাক্ষরিত নীতিমালায় নির্বাচন ও ভোটার তালিকা কার্যক্রমে নিয়োজিত ব্যক্তিদের জন্য বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সহায়তার বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে।
নীতিমালা অনুযায়ী, দায়িত্ব পালনকালে দুর্ঘটনা, হামলা বা অন্য কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় কোনো কর্মকর্তা, কর্মচারী বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মারা গেলে তাঁর পরিবার ১০ লাখ টাকা অনুদান পাবে। একই সঙ্গে গুরুতর আহত হয়ে স্থায়ীভাবে অক্ষম হলে ৪ লাখ টাকা এবং গুরুতর আহত হয়ে সাময়িকভাবে অক্ষম হলে ২ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হবে। সাধারণ আহত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত সহায়তা প্রদান করা হবে।
এ ছাড়া দায়িত্ব পালনের সময় আকস্মিক অসুস্থতা বা স্বাস্থ্যগত জটিলতার বিষয়টিও নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় আকস্মিকভাবে অসুস্থ হয়ে মারা গেলে তাঁর পরিবারের জন্য ৬ লাখ টাকা অনুদান নির্ধারণ করা হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ হয়ে স্থায়ী অক্ষমতার শিকার হলে ৩ লাখ টাকা এবং সাময়িক অসুস্থতার ক্ষেত্রে ৫০ হাজার টাকা সহায়তা পাওয়া যাবে।
হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণের ক্ষেত্রেও আর্থিক সহায়তার বিধান রাখা হয়েছে। ব্যয়বহুল চিকিৎসার প্রয়োজন হলে সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা এবং সাধারণ চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হলে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদান দেওয়া হবে।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা মৃত ব্যক্তির পরিবারকে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আবেদন করতে হবে। আবেদনটি সংশ্লিষ্ট কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে নির্বাচন কমিশনের কাছে উপস্থাপন করা হবে। কমিশন অনুমোদন দিলে নির্ধারিত পরিমাণ অর্থ অনুদান হিসেবে প্রদান করা হবে।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অতীতে এ ধরনের সহায়তা প্রদানের কিছু ব্যবস্থা থাকলেও তা সুস্পষ্ট ও সমন্বিত নীতিমালার আওতায় ছিল না। নতুন নীতিমালা প্রণয়নের ফলে অনুদান প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা তাঁদের পরিবারের জন্য প্রক্রিয়াটি আরও সহজ হবে।
এছাড়া অনুদানের অর্থ উত্তরাধিকারীদের মধ্যে কীভাবে বণ্টন করা হবে, সে বিষয়েও স্পষ্ট নির্দেশনা থাকায় ভবিষ্যতে পারিবারিক বা প্রশাসনিক জটিলতা কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নির্বাচন পরিচালনার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের সময় ঝুঁকির মুখে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের জন্য এই নীতিমালা একটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ও সহায়তা কাঠামো হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন এই উদ্যোগ দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিদের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধি করবে এবং নির্বাচন ও ভোটার তালিকা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনায় সহায়ক ভূমিকা রাখবে।