
ময়মনসিংহে একের পর এক রেল দুর্ঘটনায় সাময়িকভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে ময়মনসিংহ-জামালপুর রুটের ট্রেন চলাচল। ঢাকাগামী ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার পর সেটিকে উদ্ধার করতে যাওয়া রিলিফ ট্রেনের একটি চাকাও লাইনচ্যুত হয়েছে। ফলে উদ্ধারকাজে নতুন জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার সকালে ময়মনসিংহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় পরপর দুটি ঘটনা ঘটে। প্রথমে জামালপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি বগি সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটের দিকে শহরের কলেজ রোড এলাকায় লাইনচ্যুত হয়। এতে ওই রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং রেল যোগাযোগ ব্যাহত হয়।
ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধারকাজ পরিচালনার জন্য একটি রিলিফ ট্রেন পাঠানো হয়। তবে উদ্ধারকারী ট্রেনটি মূল ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই নতুন বিপত্তি ঘটে। ময়মনসিংহ শহরের বাঘমারা এলাকায় রিলিফ ট্রেনের একটি চাকা লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে। এতে উদ্ধার অভিযান আরও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে এবং ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করতে অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ময়মনসিংহ রেলওয়ে জংশনের সুপারিনটেনডেন্ট আব্দুল্লাহ আল হারুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেসের লাইনচ্যুত বগি এবং উদ্ধারকারী রিলিফ ট্রেন—উভয়টিকে দ্রুত উদ্ধার করার চেষ্টা চলছে। রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ ঘটনাস্থলে কাজ করছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
দুটি পৃথক স্থানে ট্রেনের চাকা লাইনচ্যুত হওয়ার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে দুর্ঘটনার কারণে যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে এবং সংশ্লিষ্ট রুটে চলাচলকারী অন্যান্য ট্রেনের সময়সূচিও প্রভাবিত হতে পারে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধারকাজ সম্পন্ন হওয়ার পর লাইন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। এরপর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ট্রেন চলাচল পুনরায় চালু করা হবে। এদিকে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করছে।
স্থানীয় যাত্রী ও বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধারকাজ সম্পন্ন করে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে এনে যাত্রীসেবাকে স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
পরপর দুটি লাইনচ্যুতির ঘটনায় রেলপথের নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও কর্তৃপক্ষ এখনই কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করেনি, তবে তদন্ত শেষে ঘটনার কারণ ও করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।