
বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র এক দিন আগে অন্যতম আয়োজক দেশ মেক্সিকোতে বিক্ষোভের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। রাজধানী মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক অ্যাজতেকা স্টেডিয়াম এলাকায় বিপুল সংখ্যক বিক্ষোভকারী সড়ক অবরোধ করে অবস্থান নেওয়ায় পুরো এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীরা স্টেডিয়ামের প্রধান প্রবেশপথের সড়ক ঘিরে অবস্থান করছেন। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তুতি যখন শেষ পর্যায়ে, ঠিক সেই সময় এই ঘটনাটি আয়োজকদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
জানা গেছে, এই বিক্ষোভের মূল কারণ দুটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। প্রথমত, মেক্সিকোর শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবি। তারা বেতন বৃদ্ধি, পেনশন সংস্কার এবং উন্নত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে আন্দোলন করছেন। শিক্ষক সংগঠনগুলোর অভিযোগ, দেশের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়লেও তাদের আয় ও সুবিধা সেই অনুপাতে বৃদ্ধি পায়নি।
দ্বিতীয় কারণ হলো, দেশে হাজারো নিখোঁজ মানুষের সন্ধান এবং সরকারের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ। আন্দোলনকারীদের দাবি, বিশ্বকাপের মতো বড় আয়োজনকে সামনে রেখে সরকার দেশের বাস্তব সামাজিক ও মানবিক সংকটগুলো আড়াল করার চেষ্টা করছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, তাদের ন্যায়বিচার ও সত্য জানার দাবি যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছে না।
তবে এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত মেক্সিকো সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে বলে জানা গেছে।
বিশ্বকাপ উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে স্বাগতিক মেক্সিকো। সেই ম্যাচকে ঘিরে ইতোমধ্যেই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আয়োজকরা আশা করছেন, দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে এবং টুর্নামেন্ট আয়োজন কোনো ধরনের বাধার মুখে পড়বে না।
উল্লেখ্য, ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো।