
আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সীমান্ত এলাকায় নতুন করে ভয়াবহ উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। আফগান সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, পাকিস্তানের সাম্প্রতিক বিমান হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নারী, শিশু ও বৃদ্ধও রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে আফগানিস্তানের কুনার, খোস্ত এবং পাকতিকা প্রদেশে। আফগান সরকারের মুখপাত্র জবিহুল্লাহ মুজাহিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে অভিযোগ করেন, পাকিস্তান আবারও আফগান আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে এবং বেসামরিক মানুষের ঘরবাড়িকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
খোস্ত প্রদেশের স্পেরা জেলায় একটি বসতবাড়িতে হামলায় ৯ জন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। একই সময়ে পাকতিকা প্রদেশের বারমাল জেলায় পৃথক আরেকটি হামলায় আরও তিন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন, যাদের সবাই শিশু ছিল বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।
অন্যদিকে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এ হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, তারা কেবল সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করেই আফগান ভূখণ্ডে অভিযান চালায় এবং বেসামরিক জনগণকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয় না।
গত কয়েক মাস ধরে দুই দেশের সীমান্তে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফেব্রুয়ারির সংঘাতের পর কিছুটা শান্তি ফিরে এলেও সাম্প্রতিক এই হামলা পরিস্থিতিকে আবারও অস্থিতিশীল করে তুলেছে।
জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসেই আফগানিস্তানে সংঘাতে শত শত বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
টিটিপি ইস্যু এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ চলছে। একে অপরকে জঙ্গিগোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত করে আসছে ইসলামাবাদ ও কাবুল।
বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন করে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনে ভয়াবহ প্রভাব ফেলতে পারে।