
ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে জাতীয় সংসদে চলমান আলোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ব্যাংকটি দখলের সময় যে পদ্ধতি ও পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, সেটি বেদখল হওয়ার সময় একই ধরনের অস্বস্তি বা যাতনা অনুভূত হওয়া স্বাভাবিক।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে বিরোধী দলীয় নেতার আনা একটি নোটিশের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় ইসলামী ব্যাংকের সাম্প্রতিক কার্যক্রম, আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ এবং ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য তুলে ধরেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইসলামী ব্যাংকের আরডিএস (রুরাল ডেভেলপমেন্ট স্কিম) প্রকল্পের আওতায় নিয়মবহির্ভূতভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিতরণের অভিযোগ রয়েছে। তিনি দাবি করেন, নির্বাচনের আগে ও পরে প্রকল্পটির মাধ্যমে বড় অঙ্কের অর্থ বিতরণ করা হয়েছে, যার যথাযথ হিসাব ও উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
তিনি আরও জানান, কয়েকটি বড় শিল্পগোষ্ঠীকে দেওয়া ঋণ, ঋণের অর্থের ব্যবহার এবং তা পরিশোধ না হওয়ার বিষয়গুলো তদন্ত করা হবে। বিশেষ করে নাবিল গ্রুপের বিপুল পরিমাণ ঋণ দায়ের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ খতিয়ে দেখবে বলে জানান তিনি।
ব্যাংকের মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, নিয়মনীতি অনুসরণ না করে বিপুলসংখ্যক কর্মীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে এবং নতুন নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রেও বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে। এসব বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন করা হবে।
সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাতের অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যাংকের অর্থ ব্যবহারের বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করা হবে এবং কোনো ধরনের অনিয়ম প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা কাঠামো নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকটির অধিকাংশ শেয়ার বর্তমানে একটি নির্দিষ্ট গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। প্রকৃত শেয়ারহোল্ডারদের পরিচয় যাচাই করে বৈধ মালিকদের অধিকার নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
এ সময় ব্যাংক খাত থেকে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ প্রসঙ্গেও কথা বলেন তিনি। সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে তদন্ত করা হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান।
ব্যাংকটির নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ নিয়ে ওঠা সমালোচনার জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। তবে ভবিষ্যতে নতুন কোনো অভিযোগ এলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হবে।
সংসদে দেওয়া এই বক্তব্যে ইসলামী ব্যাংকের আর্থিক ব্যবস্থাপনা, মালিকানা কাঠামো এবং ব্যাংকিং খাতে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে এখন নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের।