
পূর্ব কঙ্গোতে ইবোলা ভাইরাসের নতুন প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এক মাসেরও কম সময়ে অন্তত ১০১ জনের মৃত্যু হয়েছে। মোট আক্রান্তের সংখ্যা এখন পর্যন্ত ৫৫০ জনে পৌঁছেছে, যাদের মধ্যে ১৯ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন।
এই প্রাদুর্ভাবটি প্রথম ঘোষণা করা হয় ১৫ মে। এরপর থেকেই ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চললেও নানা ধরনের বাধার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে সংঘাতপূর্ণ পরিবেশ, স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলা এবং স্থানীয় জনগণের মধ্যে সন্দেহ-অবিশ্বাস ইবোলা মোকাবিলাকে কঠিন করে তুলেছে।
প্রধানত পূর্ব কঙ্গোর ইতুরি প্রদেশে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি উত্তর কিভু ও দক্ষিণ কিভু প্রদেশেও নতুন রোগী পাওয়া গেছে। উদ্বেগজনকভাবে, রোগটি সীমান্ত অতিক্রম করে পার্শ্ববর্তী দেশ উগান্ডাতেও ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। কারণ প্রাদুর্ভাবটি দেরিতে শনাক্ত হওয়ায় অনেক সংক্রমণ রেকর্ডের বাইরে থাকতে পারে। এছাড়া পরিস্থিতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এবং নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
এবারের প্রাদুর্ভাবটি বিরল ‘বুন্দিবুগিও’ ধরনের ইবোলা ভাইরাস দ্বারা ঘটেছে, যা পূর্ববর্তী বড় প্রাদুর্ভাবগুলোর জন্য দায়ী ‘জাইরে’ ধরনের ভাইরাস থেকে ভিন্ন। এই ভিন্ন ধরনের ভাইরাস হওয়ায় এর আচরণ ও বিস্তার নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
স্বাস্থ্যকর্মীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করলেও তারা বারবার হামলার শিকার হচ্ছেন। কিছু ক্ষেত্রে সামরিক স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর স্থানীয় জনগণের ক্ষোভ থেকে হামলার ঘটনা ঘটেছে। অপরদিকে, অনেক এলাকায় সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীর কারণে স্বাস্থ্যকর্মীরা পৌঁছাতে পারছেন না।
পূর্ব কঙ্গো দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘাতে বিপর্যস্ত। কিছু গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিদেশি শক্তি বা আন্তর্জাতিক চরমপন্থী সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অভিযোগও রয়েছে। এই অস্থিরতা ইবোলা মোকাবিলার প্রচেষ্টাকে আরও দুর্বল করে তুলছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানিয়েছে, সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি স্বাস্থ্যকর্মীদের আক্রান্ত এলাকায় প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করছে, নজরদারি ব্যবস্থা দুর্বল করছে এবং অনেক সংক্রমণ শনাক্তের বাইরে থেকে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে। সংস্থাটি বলেছে, এই সংকট মোকাবিলায় স্থানীয় নেতৃত্ব, কমিউনিটি অংশগ্রহণ এবং আস্থার পরিবেশ তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি।
এছাড়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে পরীক্ষার (ডায়াগনস্টিক) সক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় আগে সংগ্রহ করা অনেক নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব হয়েছে, যার ফলে সংক্রমণের সংখ্যা হঠাৎ করে বেড়ে গেছে বলে দেখা যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ইবোলা পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং আঞ্চলিক স্বাস্থ্য সংকট আরও গভীর হতে পারে।