
ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে কক্সবাজারের টেকনাফ ইডেন স্কুল অ্যান্ড কলেজের গণিত বিভাগের শিক্ষক মঞ্জুর আলম সোহাগ (৩০) মারা গেছেন। মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল ৭টার দিকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
মঞ্জুর আলম সোহাগ টেকনাফ ইডেন স্কুল অ্যান্ড কলেজের গণিত বিভাগের শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার মৃত্যুতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ স্থানীয় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
টেকনাফ ইডেন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আবু তাহের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সোহাগ একজন দায়িত্বশীল ও মেধাবী শিক্ষক ছিলেন। তার অকাল মৃত্যুতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা গভীরভাবে শোকাহত।
মৃত মঞ্জুর আলম সোহাগ কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ দক্ষিণ পাড়ার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি জাফর আলমের ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ-ছয় দিন আগে থেকে তিনি জ্বর, শরীরব্যথা এবং মাথাব্যথায় ভুগছিলেন। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। পরে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
চিকিৎসা চলাকালীন অবস্থায় ৪ জুন তার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে তিনি একটি আবেগঘন পোস্ট দেন। সেখানে তিনি লেখেন, সবাই যেন তাকে ক্ষমা করে দেন এবং তার জন্য দোয়া করেন, কারণ তিনি প্রচণ্ড জ্বর, শরীর ব্যথা ও মাথা ব্যথায় ভুগছিলেন। এই পোস্টটি পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, অসুস্থতা শুরু হলে প্রথমে সাধারণ জ্বর ভেবে চিকিৎসা নেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু পরে অবস্থার অবনতি হলে পরীক্ষা করে ডেঙ্গু ধরা পড়ে। এরপর দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও শেষ পর্যন্ত আর সুস্থ হয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি।
তার বাবা জাফর আলম বলেন, কয়েক দিন ধরে তার ছেলে অসুস্থ ছিল এবং পরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও তাকে বাঁচানো যায়নি। তিনি সন্তানের জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেন।
সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে তার মৃত্যুতে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে। সহকর্মীরা জানান, তিনি ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী, পরিশ্রমী এবং শিক্ষার্থীবান্ধব একজন শিক্ষক। তার অকাল মৃত্যু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।
তার সাবেক সহপাঠী ও বন্ধু সাদেকুল ইসলাম মাহেল বলেন, সোহাগ অত্যন্ত মেধাবী ও ভালো মানুষ ছিলেন। তিনি সবসময় অন্যের উপকারে এগিয়ে আসতেন। তার মৃত্যুতে বন্ধু মহলে শূন্যতা তৈরি হয়েছে।
এদিকে, মঞ্জুর আলম সোহাগের মৃত্যুতে টেকনাফ ইডেন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষ গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছে। একই সঙ্গে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে চিকিৎসকরা বারবার সতর্ক করছেন। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এ রোগের ঝুঁকি বাড়ে বলে তারা জানান। দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ ও সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সব মিলিয়ে একজন তরুণ শিক্ষক, যিনি শিক্ষা পেশায় নতুনভাবে অবদান রাখছিলেন, তার অকাল মৃত্যু এলাকাজুড়ে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।