
নতুন বছরের শুরুতেই জ্বালানি তেলের দামে স্বস্তি পেল দেশের ভোক্তারা। সরকার জানুয়ারি মাসের জন্য জ্বালানি তেলের দাম পুনর্নির্ধারণ করেছে, যার ফলে প্রতি লিটারে ২ টাকা করে দাম কমানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) থেকে নতুন দামে পেট্রল, অকটেন, ডিজেল ও কেরোসিন বিক্রি শুরু হয়েছে।
বুধবার রাতের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি বিভাগ। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম হ্রাস-বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে প্রতি মাসে জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ করা হচ্ছে।
জ্বালানি বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সংশোধিত প্রাইসিং ফর্মুলার আলোকে ভোক্তা পর্যায়ে তুলনামূলক সাশ্রয়ী দামে জ্বালানি তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতেই জানুয়ারি মাসের জন্য নতুন করে দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এই পদ্ধতির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সঙ্গে মিল রেখে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ করা হচ্ছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসে ডিজেলের বিক্রয়মূল্য প্রতি লিটার ১০৪ টাকা থেকে কমিয়ে ১০২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একইভাবে কেরোসিনের দাম প্রতি লিটার ১১৬ টাকা থেকে ২ টাকা কমিয়ে ১১৪ টাকা করা হয়েছে।
এছাড়া অকটেনের দাম প্রতি লিটার ১২৪ টাকা থেকে কমিয়ে ১২২ টাকা এবং পেট্রলের দাম ১২০ টাকা থেকে কমিয়ে ১১৮ টাকা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এই দাম আজ থেকেই সারা দেশে কার্যকর হয়েছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি তেলের দামে এই সামান্য হ্রাস পরিবহন খাতসহ সার্বিক অর্থনীতিতে কিছুটা হলেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে গণপরিবহন ও পণ্য পরিবহনের খরচ কমলে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কিছুটা লাঘব হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, সরকার ২০২৩ সাল থেকে স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি চালু করেছে। এই ব্যবস্থায় প্রতি মাসে আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সঙ্গে সমন্বয় করে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো বা কমানো হয়। জানুয়ারি মাসের জন্য ঘোষিত নতুন দাম সেই প্রক্রিয়ারই অংশ বলে জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ।