
যৌন নির্যাতনের অভিযোগের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রধান প্রসিকিউটর করিম খানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। আদালতের পরিচালনা পর্ষদ স্থানীয় সময় সোমবার (৮ মে) এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে।
আইসিসির নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে চলমান শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তিনি সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে সরে থাকবেন। এর আগে আদালতের নির্বাহী কমিটি অভিযোগটি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর একটি বিশেষ অধিবেশনে পাঠানোর পক্ষে ভোট দেয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আদালতের ২১টি সদস্য রাষ্ট্রের একটি বিশেষ কমিটি সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে করিম খানের বিরুদ্ধে গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে তার ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
করিম খান, যিনি একজন ব্রিটিশ আইনজীবী, এসব অভিযোগ বারবার অস্বীকার করে আসছেন। তার আইনজীবীরা দাবি করেছেন, তিনি কখনোই ক্ষমতার অপব্যবহার বা জবরদস্তিমূলক আচরণে জড়িত হননি।
অভিযোগগুলো প্রথম ২০২৪ সালে সামনে আসে, যা আইসিসির প্রসিকিউশন বিভাগের কার্যক্রমে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। অভিযোগকারী ছিলেন আদালতের হেগে অবস্থিত দপ্তরে কর্মরত এক নারী কর্মী। তার দাবি অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বিভিন্ন সময় হোটেল কক্ষ, অফিস এবং ব্যক্তিগত স্থানে এই অনিয়ম ঘটে।
আইসিসির ১২৫টি সদস্য রাষ্ট্রের কাছে বিষয়টি পাঠানোকে একটি নজিরবিহীন পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে করিম খানকে স্থায়ীভাবে অপসারণ করা হবে কিনা, সে বিষয়ে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ভোটাভুটি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আইসিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই সাময়িক বরখাস্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয় এবং চলমান তদন্তের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এর আগে একটি স্বাধীন পর্যবেক্ষণ সংস্থার প্রতিবেদন, বিচারিক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ এবং উভয় পক্ষের লিখিত বক্তব্য বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি আইসিসির ইতিহাসে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও নজিরবিহীন ঘটনা, যা আন্তর্জাতিক বিচার ব্যবস্থার নেতৃত্ব কাঠামোতে প্রভাব ফেলতে পারে।