
গাজীপুর মহানগর পুলিশের (জিএমপি) টঙ্গী পূর্ব ও পশ্চিম থানা পুলিশের যৌথ বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন স্থান থেকে মোট ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) টঙ্গী পূর্ব ও পশ্চিম থানা পুলিশ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। অভিযানে গ্রেপ্তারদের মধ্যে ফরিদ (৫৫) নামে এক আওয়ামী লীগ কর্মী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ফরিদ টঙ্গীর গুটিয়া এলাকার বাসিন্দা এবং টঙ্গী পশ্চিম থানা আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য হিসেবে পরিচিত। তাকে গ্রেপ্তারের পর শারীরিক অসুস্থতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।
জিএমপির তথ্য অনুযায়ী, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টঙ্গী পূর্ব ও টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ সমন্বিতভাবে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে মোট ২৩ জনকে আটক করা হয়। এর মধ্যে টঙ্গী পূর্ব থানা এলাকা থেকে ১২ জন এবং টঙ্গী পশ্চিম থানা এলাকা থেকে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের মামলা রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযানের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হয়।
টঙ্গী পশ্চিম থানার মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া ফরিদ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে তার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এ বিষয়ে টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজন বিভিন্ন মামলার আসামি। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে মাদকও উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি বলেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অন্যদিকে টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে একজন আসামি অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলেও জানান তিনি।
পুলিশের দাবি, অপরাধ দমন, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে এ ধরনের বিশেষ অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক এই অভিযানের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের তৎপরতা আরও জোরদার হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।