
বছরের শেষ দিনে আবারও ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল জাপান। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলীয় এলাকায় ৬ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। আকস্মিক এই কম্পনে উপকূলবর্তী এলাকাগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল জাপানের নোডা অঞ্চলের উপকূলের কাছাকাছি। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১৯ দশমিক ৩ কিলোমিটার গভীরে। গভীরতায় তুলনামূলক কম হওয়ায় কম্পনের প্রভাব আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় অনুভূত হয়।
তাৎক্ষণিকভাবে এই ভূমিকম্পে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি হয়, বিশেষ করে সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের অভিজ্ঞতার কারণে।
উল্লেখ্য, কয়েক সপ্তাহ আগেই জাপানের বিভিন্ন অঞ্চলে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। ওই ভূমিকম্পে অন্তত ৩০ জন আহত হন এবং প্রায় ৯০ হাজার মানুষ নিরাপত্তার কারণে তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বাধ্য হন। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বছরের শেষ দিনে নতুন করে কম্পন দেশটির মানুষের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।
এর আগে গত ৮ ডিসেম্বর জাপানের উপকূলীয় এলাকায় সংঘটিত আরেকটি ভূমিকম্পের পর দেশটির আবহাওয়া সংস্থা উত্তর-পূর্ব উপকূলে সর্বোচ্চ ৩ মিটার উচ্চতার সুনামির আশঙ্কা প্রকাশ করে। সে সময় হোক্কাইডো, আওমোরি ও ইওয়াতে প্রদেশে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। পরে বিভিন্ন বন্দরে ২০ থেকে ৭০ সেন্টিমিটার উচ্চতার সুনামি ঢেউ পর্যবেক্ষণ করা হয়।
ভূগোলগত অবস্থানের কারণে জাপান বিশ্বের সবচেয়ে ভূমিকম্পপ্রবণ দেশগুলোর একটি। প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এ অবস্থিত হওয়ায় দেশটিতে নিয়মিত ভূকম্পন অনুভূত হয়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জাপানে গড়ে প্রতি পাঁচ মিনিটে একটি করে ভূমিকম্প ঘটে এবং বিশ্বের ৬ দশমিক ০ বা তার বেশি মাত্রার প্রায় ২০ শতাংশ ভূমিকম্প এই অঞ্চলেই সংঘটিত হয়।
এর আগে ২০১১ সালের ১১ মার্চ জাপানের উত্তরাঞ্চলীয় শহর সেন্দাইয়ের উপকূলে ৯ দশমিক ০ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হানে। সেই ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট বিশাল সুনামিতে প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলজুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে এবং প্রায় ২০ হাজার মানুষ প্রাণ হারান। সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা জাপানের মানুষের স্মৃতিতে আজও গভীরভাবে দাগ কেটে আছে।