
যশোরে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে নানাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত ব্যক্তি ইমামুল হোসেন (৫০), যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার ফারাসতপুর গ্রামের মৃত রহিম সরদারের ছেলে। এই ঘটনার পর পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার (৮ জুন) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে মনিরামপুর উপজেলার রোহিতা ইউনিয়নের শরমপুর গ্রামের মতিনের দোকানের পেছনে। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন আগে ইমামুল হোসেনের নাতনিকে ইভটিজিংয়ের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার প্রতিবাদ জানানোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়।
পরবর্তীতে সেই বিরোধই সহিংস রূপ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, ঝিকরগাছা সদর ইউনিয়নের ৬ নম্বর এলাকার বাসিন্দা সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি ইমামুল হোসেনের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীদের মধ্যে রবিউল, হোসাইন, রাকিব, মেহেদী ও রাব্বিসহ কয়েকজন ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। তারা ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তাকে আক্রমণ করে।
হামলায় গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রাহুল দেব ঘোষ পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের মতে, হাসপাতালে আনার আগেই তার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল।
ঘটনার পর পুলিশ মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
নিহতের পরিবার অভিযোগ করেছে, ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করাই ছিল এই হামলার মূল কারণ। তাদের দাবি, আগে থেকেই এ ঘটনায় জড়িতদের সঙ্গে নিহতের বিরোধ চলছিল এবং ঘটনার দিন পরিকল্পিতভাবে তাকে একা পেয়ে আক্রমণ করা হয়।
অন্যদিকে, ঘটনার পরপরই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে বলে জানিয়েছে যশোর জেলা পুলিশ। যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ ধরনের সহিংস ঘটনা সমাজে ইভটিজিং প্রতিরোধ ও সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয়দের মতে, দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত না হলে এ ধরনের অপরাধ আরও বাড়তে পারে।
সব মিলিয়ে একটি পারিবারিক প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া এই হত্যাকাণ্ড যশোরের মনিরামপুর এলাকায় গভীর শোক ও ক্ষোভের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।