
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন চীনা প্রযুক্তি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশ্বখ্যাত অনলাইন বাণিজ্য প্ল্যাটফর্ম Alibaba, বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা BYD এবং সার্চ ইঞ্জিন প্রতিষ্ঠান Baidu-সহ একাধিক বড় চীনা কোম্পানিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
পেন্টাগনের এই সিদ্ধান্তের ফলে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কোনো প্রতিরক্ষা চুক্তি বা সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে অংশ নিতে পারবে না। ২০২১ সালে মার্কিন কংগ্রেসের নির্দেশে এই তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো এমন চীনা প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করা, যেগুলো সরাসরি বা পরোক্ষভাবে চীনের সামরিক ও প্রতিরক্ষা খাতকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করছে।
সর্বশেষ আপডেটে এই তালিকায় মোট ১৮৮টি প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গত বছর এই সংখ্যা ছিল প্রায় ১৩০। এবার নতুন করে যুক্ত হয়েছে বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য কোম্পানি, যার মধ্যে রোবোটিক্স প্রতিষ্ঠান ইউনিট্রি এবং ড্রোন নির্মাতা ডিজেআইও রয়েছে। ইউনিট্রি তাদের নাচতে সক্ষম রোবট দিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনায় এসেছিল, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো “America’s Got Talent”-এ অংশ নিয়ে।
পেন্টাগনের দাবি, আলিবাবা, বিওয়াইডি ও বাইডুর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো চীনের শিল্প ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যুক্ত থেকে দেশটির সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে। যদিও এসব কোম্পানি নিজেদের বেসামরিক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাবি করে, মার্কিন কর্তৃপক্ষ মনে করছে চীনের সামরিক বাহিনী এসব প্রতিষ্ঠানের উন্নত প্রযুক্তি ও দক্ষতা কাজে লাগাতে পারে।
এই সিদ্ধান্তের পর যুক্তরাষ্ট্রের কিছু আইনপ্রণেতা দাবি তুলেছেন, যেসব চীনা কোম্পানি মার্কিন শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত, তাদের অবিলম্বে বাজার থেকে বাদ দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে মার্কিন কোম্পানিগুলোর এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক সীমিত করার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
পেন্টাগনের এই পদক্ষেপের পর ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাস তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে “জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে বৈষম্যমূলক আচরণ” করার অভিযোগ তুলেছে। চীনা দূতাবাসের মতে, তাদের কোম্পানিগুলো আন্তর্জাতিক আইন মেনে বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের এই তালিকা অন্যায্য এবং এটি বন্ধ করা উচিত বলে তারা দাবি করেছে।
অন্যদিকে, তালিকায় অন্তর্ভুক্ত কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত চীন-যুক্তরাষ্ট্র প্রযুক্তি ও বাণিজ্য উত্তেজনাকে আরও গভীর করবে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বৈদ্যুতিক যানবাহন এবং ই-কমার্স খাতে দুই দেশের প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হতে পারে। পেন্টাগনের এই তালিকা শুধু প্রতিরক্ষা খাতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং বৈশ্বিক প্রযুক্তি ও সরবরাহ চেইনেও দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলের অংশ হলেও, এর আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া এবং চীনা অর্থনীতির ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।