
দ্রুত উইকেট হারানোর ধাক্কা সামলে দুর্দান্ত এক জুটিতে ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে বাংলাদেশ। ইনিংসের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ব্যাট হাতে দায়িত্বশীল পারফরম্যান্স উপহার দেন ওপেনার তানজিদ হাসান ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তাদের ব্যাটে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে আসে ৯৬ রান, যা দলের স্কোরকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
শুরু থেকেই ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে ব্যাটিং করেন তানজিদ। প্রতিপক্ষ বোলারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে দ্রুত রান তুলতে থাকেন তিনি। অন্যদিকে শান্ত ছিলেন সংযত, তবে সুযোগ পেলেই খেলেছেন আক্রমণাত্মক শট। দুজনের বোঝাপড়া ও পরিকল্পিত ব্যাটিংয়ে দ্রুত ঘুরতে থাকে বাংলাদেশের রানের চাকা।
দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে মাত্র ৯১ বলে ৯৬ রান যোগ করেন এই দুই ব্যাটার। তাদের ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ একদিকে যেমন চাপমুক্ত হয়, অন্যদিকে বড় সংগ্রহের স্বপ্নও দেখতে শুরু করে। বিশেষ করে পাওয়ারপ্লের পর মাঝের ওভারগুলোতে তারা রান তোলার গতি ধরে রাখতে সক্ষম হন।
ব্যক্তিগত অর্ধশতক পূরণ করে দারুণ ছন্দে ছিলেন তানজিদ হাসান। ৪৪ বল মোকাবিলা করে ৫৪ রান করেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল কয়েকটি দৃষ্টিনন্দন বাউন্ডারি ও আত্মবিশ্বাসী শট। তবে ইনিংস আরও বড় করার সুযোগ থাকলেও নাথান এলিসের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে ফিরতে হয় তাকে। ফলে শতরানের কাছাকাছি পৌঁছে ভেঙে যায় বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ জুটি।
তানজিদের বিদায়ের পরও দলের রান তোলার ধারা অব্যাহত রাখেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। সঙ্গী হিসেবে পান লিটন দাসকে। দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে নিজের অর্ধশতকও পূরণ করেন শান্ত। ৬৬ বল মোকাবিলা করে ৫৬ রানে অপরাজিত থেকে ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যান তিনি।
এই অর্ধশতকের মাধ্যমে ধারাবাহিকতার অনন্য নজির গড়েছেন শান্ত। চলতি ম্যাচসহ টানা তিন ম্যাচে ফিফটি তুলে নিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাট হাতে তার এই ধারাবাহিকতা দলের জন্য বড় স্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশের ইনিংসের মাঝপথে তানজিদের ঝকঝকে অর্ধশতক এবং শান্তর দায়িত্বশীল ব্যাটিং দলকে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে নিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। শেষদিকে ব্যাটাররা সেই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে কত বড় সংগ্রহ গড়তে পারেন, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষা।