
দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য বাড়িভাড়া ভাতা বৃদ্ধির পূর্বঘোষিত সিদ্ধান্ত আগামী জুলাই থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হতে যাচ্ছে। এর ফলে শিক্ষক-কর্মচারীরা মূল বেতনের ১৫ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া ভাতা পাবেন, যা তাদের আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাড়িভাড়া ভাতা দুই ধাপে বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। প্রথম ধাপে গত বছরের নভেম্বর থেকে মূল বেতনের ৭ দশমিক ৫ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া ভাতা কার্যকর করা হয়। এখন দ্বিতীয় ধাপে আরও ৭ দশমিক ৫ শতাংশ যোগ হয়ে আগামী জুলাই থেকে মোট বাড়িভাড়া ভাতা মূল বেতনের ১৫ শতাংশে উন্নীত হবে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (ইএমআইএস) সেলের প্রোগ্রামার মো. জহির উদ্দিন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সরকারের পূর্বনির্ধারিত সিদ্ধান্ত অনুসারে এ বছরের জুলাই মাস থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা ১৫ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া ভাতা পাবেন। এ সংক্রান্ত কার্যক্রম ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে চলমান রয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী জুলাই থেকেই এই সুবিধা কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। বিষয়টি বাস্তবায়নের জন্য বাজেট শাখা থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা বা চিঠি জারি করা হতে পারে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২১ অক্টোবর অর্থ মন্ত্রণালয় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়িভাড়া ভাতা বৃদ্ধির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সম্মতি প্রদান করে। সে সময় জারি করা সম্মতিপত্রে সরকারের বাজেটগত সীমাবদ্ধতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দুই ধাপে বাড়িভাড়া ভাতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করা হয়।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১ নভেম্বর ২০২৫ থেকে মূল বেতনের ৭ দশমিক ৫ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া ভাতা নির্ধারণ করা হয়, যার সর্বনিম্ন পরিমাণ ২ হাজার টাকা। একই সিদ্ধান্তে বলা হয়, ১ জুলাই ২০২৬ থেকে অতিরিক্ত আরও ৭ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি করা হবে। ফলে বাড়িভাড়া ভাতা মূল বেতনের সর্বমোট ১৫ শতাংশে উন্নীত হবে, তবে সর্বনিম্ন ভাতার পরিমাণ ২ হাজার টাকার কম হবে না।
শিক্ষক নেতাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে বাড়িভাড়া ভাতা বৃদ্ধির দাবি ছিল। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, আবাসন খাতে ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির কারণে শিক্ষক-কর্মচারীদের আর্থিক চাপ কিছুটা লাঘব করতে এ সিদ্ধান্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। যদিও অনেকেই মনে করেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভবিষ্যতে অন্যান্য ভাতা ও সুযোগ-সুবিধার বিষয়েও আরও উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
জুলাই থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের হাজার হাজার এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারী সরাসরি উপকৃত হবেন বলে সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা। শিক্ষা খাতে কর্মরতদের আর্থিক সুরক্ষা ও কর্মপরিবেশ উন্নয়নের ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।