
আগামী অর্থবছর থেকে দেশের কর ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, কর ব্যবস্থাকে আরও স্বয়ংক্রিয়, আধুনিক ও সময়োপযোগী করতে আয়কর আইনে নতুন সংস্কার আনা হচ্ছে।
নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য রিটার্ন দাখিলের সময় চারটি ভাগে বিভক্ত করা হবে। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে করদাতারা পরিশোধিত করের ৫ শতাংশ অথবা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত করছাড় পাবেন। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে কোনো জরিমানা থাকবে না, তবে বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত পাওয়া যাবে না।
অন্যদিকে জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে ২ শতাংশ বা সর্বনিম্ন ৩ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে। এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে ৫ শতাংশ বা সর্বনিম্ন ৫ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হবে।
বর্তমানে সঞ্চয়পত্র, জীবনবিমা ও ডিপিএসসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের বিপরীতে কর রেয়াত পাওয়া যায়। তবে নতুন প্রস্তাবে এই সুবিধা কমিয়ে অনুমোদিত বিনিয়োগের ১০ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগে ছিল ১৫ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা।
এছাড়া বাজেটে স্বর্ণালংকার, স্বর্ণের বার, রৌপ্য, মূল্যবান রত্ন, ডিজিটাল মুদ্রা, চিত্রকর্ম ও এন্টিকস বিক্রির মুনাফাকে মূলধনি সম্পদ হিসেবে গণ্য করার প্রস্তাব রয়েছে। এসব সম্পদ বিক্রির ক্ষেত্রে অর্জিত মুনাফার ওপর ১৫ শতাংশ মূলধনি কর (গেইন ট্যাক্স) আরোপ করা হবে।
অতিরিক্ত কর আদায় হলে ৬০ দিনের মধ্যে তা ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে।
এদিকে ভ্যাট ব্যবস্থার আওতা বাড়াতে ব্যবসা শনাক্তকরণ নম্বর (বিআইএন) বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্যাংক হিসাব খোলা, ঋণ গ্রহণ, ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন, বিদ্যুৎ-গ্যাস সংযোগ ও যানবাহন নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বিআইএন বাধ্যতামূলক করা হবে।