
যশোরের বেনাপোলের শার্শা উপজেলায় সাংবাদিক আসাদুজ্জামানকে গভীর রাতে বাসা থেকে তুলে নিয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনের এক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পরিবার ও আইনজীবীদের দাবি, নামের মিলের কারণে একজন সাংবাদিককে ভুলভাবে রাজনৈতিক পরিচয়ে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, রবিবার গভীর রাতে শার্শা উপজেলার জামতলার বাড়ি থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। পরিবারের দাবি, কোনো লিখিত কাগজপত্র দেখানো হয়নি এবং আটক করার কারণও স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি। পরবর্তীতে তাকে আওয়ামী লীগের উপজেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে উল্লেখ করে আদালতে পাঠানো হয়।
তবে পরিবার ও আইনজীবীদের বক্তব্য ভিন্ন। তাদের দাবি, আসাদুজ্জামান একসময় শার্শা সরকারি মহিলা কলেজে প্রদর্শক হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং বর্তমানে তিনি সাংবাদিকতা করেন। অতীতে তিনি উপজেলা কমিটির শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক থাকলেও পরবর্তীতে সেই পদে আর ছিলেন না এবং সাংগঠনিক সম্পাদকও নন বলে তারা দাবি করেছেন।
অন্যদিকে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আসাদুজ্জামানকে সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ড ও নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শার্শা থানার ওসির দাবি, তিনি আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ছিলেন এবং সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের ভিত্তিতেই তাকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত মামলাটি ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর দায়ের করা হয়। মামলায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের সাতজনের নাম উল্লেখ থাকলেও সাংবাদিক আসাদুজ্জামানের নাম নেই বলে জানা গেছে। তবে একই নামের অন্য একজন রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে তার পরিচয় বিভ্রান্তির কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে দাবি করছে পরিবার।
সোমবার তাকে আদালতে হাজির করা হলে জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। এ ঘটনায় শার্শা ও বেনাপোলের সাংবাদিকরা থানার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন এবং তার মুক্তির দাবি জানান।
স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনগুলো এই গ্রেপ্তারকে ‘বেদনাদায়ক’ ও ‘প্রশ্নবিদ্ধ’ বলে উল্লেখ করে অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে পুলিশ বলছে, তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে।
ঘটনাটি স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং সাংবাদিক নিরাপত্তা ও পরিচয় বিভ্রান্তি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।