
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলায় এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্র পরিবর্তনের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন টুঙ্গিপাড়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা। সোমবার (৮ জুন) সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির কারণে প্রায় দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
প্রথমে শিক্ষার্থীরা টুঙ্গিপাড়া সরকারি কলেজের সামনে ঢাকা–পিরোজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে দুপুরের দিকে পাটগাতী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন তারা। এতে দূরপাল্লার যানবাহনসহ সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তাদের কলেজের এইচএসসি পরীক্ষা বাঘিয়াঘাট স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। কিন্তু ওই কেন্দ্রের কিছু শিক্ষকের বিরুদ্ধে পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি পরীক্ষা কেন্দ্রটি কলেজ থেকে অনেক দূরে হওয়ায় শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি হচ্ছে বলেও তারা দাবি করেন।
এ কারণে তারা সাবেক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত জি.টি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়কে পুনরায় পরীক্ষাকেন্দ্র হিসেবে নির্ধারণের দাবি জানান। শিক্ষার্থীরা জানান, তারা কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা দিতে চান না এবং সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেই কেন্দ্র হিসেবে নির্ধারণ করা উচিত।
বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থী ও পরীক্ষার্থীরা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। এতে যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায় এবং সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল-আমিন হাওলাদার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের অভিযোগ শোনেন। তিনি জানান, কেন্দ্র পরিবর্তনের বিষয়টি জটিল প্রক্রিয়া এবং তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, পরীক্ষাকেন্দ্রে অসৌজন্যমূলক আচরণের বিষয়ে যদি কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া যায়, তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনের আশ্বাসের পর শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নিয়ে ক্যাম্পাসে ফিরে যান।
টুঙ্গিপাড়া থানার ওসি আইয়ুব আলী জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং শিক্ষার্থীরা অবরোধ প্রত্যাহার করেছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ টহল জোরদার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় কিছুটা উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। তবে শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।