
সরকার দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বড় ধরনের একটি সামাজিক সহায়তা কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় এক কোটি ৭ লাখের বেশি শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম, জুতা, মোজা এবং স্কুল ব্যাগ দেওয়া হবে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানিয়েছেন, নির্বাচনী ইশতেহার এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সোমবার (৮ জুন) সচিবালয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে এক সভা শেষে তিনি এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, মূল কার্যক্রম শুরু করার আগে জুলাই-আগস্ট মাসের মধ্যে একটি পাইলট প্রকল্প চালু করা হবে। এই পরীক্ষামূলক ধাপে প্রায় সাড়ে তিন লাখ শিক্ষার্থীকে এসব শিক্ষা সামগ্রী দেওয়া হবে। পাইলট প্রকল্পটি কয়েকটি ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রথম ধাপে অন্তত এক লাখ শিক্ষার্থীকে এসব সামগ্রী দেওয়া হবে। এরপর ধাপে ধাপে বাকি শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ডিসেম্বরের মধ্যে পাইলট প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
পাইলট প্রকল্প সফল হলে আগামী জানুয়ারি থেকে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পূর্ণাঙ্গভাবে এই কার্যক্রম চালু করা হবে। সরকারের লক্ষ্য হলো দেশের কোনো উপজেলা বা স্কুল যেন এই সুবিধা থেকে বাদ না পড়ে।
এজন্য দেশের ২৫ হাজারেরও বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে বলে জানানো হয়েছে।
এ উদ্যোগে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। মন্ত্রণালয় প্রাথমিকভাবে ৫ লাখ পাটের স্কুল ব্যাগ বিনামূল্যে সরবরাহ করবে। এই ব্যাগগুলো ওয়াটারপ্রুফ হবে বলে জানানো হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে বাস্তব অভিজ্ঞতা সংগ্রহ করা হবে। এতে কোনো ত্রুটি বা ঘাটতি থাকলে তা চিহ্নিত করে পরবর্তী পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রমে সংশোধন করা হবে।
তিনি আরও জানান, মাঠ পর্যায়ে এই কার্যক্রম বাস্তবায়নে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ও সহযোগিতা করবে, যাতে প্রতিটি এলাকায় সমন্বিতভাবে সুবিধা পৌঁছে দেওয়া যায়।
সরকারের এই উদ্যোগকে শিক্ষায় অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং ঝরে পড়া শিক্ষার্থী কমানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে দরিদ্র ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুদের জন্য এটি বড় সহায়তা হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।