
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনকে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেন, বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের অবদান আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে এবং সরকার এ কার্যক্রমকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
সোমবার (৮ জুন) দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সাংবাদিকদের সংগঠন ডিফেন্স জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিজাব) আয়োজিত ‘বিশ্ব শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের অবদান’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তিনি।
অনুষ্ঠানে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ শুধু আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পালনের বিষয় নয়, বরং এটি দেশের কূটনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে। বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা পেশাদারিত্ব, মানবিকতা এবং সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে প্রশংসা অর্জন করেছেন।
শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদের পরিবারের প্রতিও গভীর শ্রদ্ধা জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, যারা প্রিয়জনদের দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে রেখে দায়িত্ব পালনের সুযোগ করে দেন, তাদের অবদানও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য তিনি ব্যক্তিগতভাবে এবং সরকারের পক্ষ থেকে শান্তিরক্ষী পরিবারের সদস্যদের প্রতি সম্মান ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সবসময় শান্তিরক্ষীদের কল্যাণ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে। ভবিষ্যতেও তাদের যেকোনো প্রয়োজন ও সমস্যার বিষয়ে মন্ত্রণালয় সহযোগিতামূলক ভূমিকা পালন করবে।
শামা ওবায়েদ ইসলাম আশ্বাস দিয়ে বলেন, শান্তিরক্ষীরা কিংবা তাদের পরিবার কোনো প্রয়োজন বা সমস্যার বিষয়ে সরকারের কাছে এলে তা গুরুত্বসহকারে দেখা হবে এবং যথাসম্ভব সহযোগিতা প্রদান করা হবে।
আলোচনা সভায় বক্তারা বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের দীর্ঘদিনের অবদান তুলে ধরেন। তারা বলেন, জাতিসংঘের বিভিন্ন মিশনে বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে অন্যতম বৃহৎ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এই সাফল্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা বাড়িয়েছে।
বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে দায়িত্ব পালন করে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। তাদের নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও আত্মত্যাগ দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনছে বলে অনুষ্ঠানে উল্লেখ করা হয়।