
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার লৌহজং নদী থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় রুবেল মিয়া নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে এভাবে বালু উত্তোলন চললেও প্রশাসনের কার্যকর কোনো ব্যবস্থা দেখা যাচ্ছে না।
অভিযুক্ত রুবেল মিয়া মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই ইউনিয়ন (পশ্চিম) আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বানেজ মিয়ার ছেলে এবং একই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মির্জাপুর উপজেলার কলিমাজানি এলাকায় লৌহজং নদী থেকে নিয়মিতভাবে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এই বালু পরে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি ও জমি ভরাটের কাজে ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে নদীর তীরবর্তী এলাকায় ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। বসতবাড়ি, ফসলি জমি এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। বিশেষ করে নির্মীয়মাণ কলিমাজানি সেতু এখন মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে বলে স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
কলিমাজানি গ্রামের বাসিন্দারা জানান, প্রকাশ্যে ড্রেজার চালিয়ে বালু উত্তোলন চললেও প্রভাবশালী অবস্থানের কারণে কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত রয়েছে।
এক স্থানীয় বাসিন্দা রোজিনা আক্তার বলেন, তার পরিবারের বাড়ির পাশ থেকেই দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলন চলছে। এতে বাড়িটি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।
আরও কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অভিযুক্ত রুবেল মিয়ার পারিবারিক প্রভাব এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বালু ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। তাদের দাবি, নদী থেকে ভেকু ও ড্রেজার ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলন করে লাখ লাখ টাকার ব্যবসা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত রুবেল মিয়া দাবি করেন, তার ড্রেজার দিয়ে স্থানীয় একজন ব্যক্তি জমি ভরাটের কাজ করছেন এবং সেখানে মসজিদ ও কবরস্থানের জায়গা ভরাট করা হচ্ছে। তবে একপর্যায়ে তিনি স্বীকার করেন যে, তারা নিজেরাই কিছু ভরাট কাজ করেছেন এবং বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান।
এদিকে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি তাদের নজরে ছিল না। মির্জাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তারেক রেজা বলেন, লৌহজং নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
লৌহজং নদীর মতো গুরুত্বপূর্ণ নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন দীর্ঘদিন ধরে একটি পরিবেশগত ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এভাবে চলতে থাকলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি আশপাশের এলাকায় স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে।
স্থানীয়রা দ্রুত অভিযান চালিয়ে অবৈধ ড্রেজার বন্ধ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।