
বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী Mo. Shariful Alam বলেছেন, একটি জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত ‘রপ্তানির আড়ালে অর্থ পাচার’ শীর্ষক প্রতিবেদনে তার সম্পর্কে যে তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণভাবে ভিত্তিহীন, কাল্পনিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, প্রতিবেদনে তাকে Best Leather Company Limited-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে মিল নেই। তিনি স্পষ্ট করে জানান, তিনি কখনোই ওই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন না।
তবে তিনি স্বীকার করেন যে, তিনি প্রতিষ্ঠানটির একজন পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে যে অর্থ পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে, সেটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম বলেন, কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়াই তার নাম জড়িয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং বিভ্রান্তিকর। তিনি মনে করেন, এটি তার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ন করার একটি চেষ্টা।
তিনি আরও বলেন, প্রতিবেদনে যেসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে, তার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই এবং এসব অভিযোগের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তার ভাষায়, “এ ধরনের মনগড়া তথ্য জনগণের মধ্যে ভুল বার্তা দেয় এবং একটি দায়িত্বশীল পেশার মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে।”
প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এমন সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে, যাতে তাকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয় করা যায়। তিনি বলেন, বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন এবং এর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
এছাড়া তিনি সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকে আহ্বান জানান, ভুল তথ্য যাচাই-বাছাই ছাড়া প্রকাশ না করতে। তিনি বলেন, গণমাধ্যমের দায়িত্ব হলো সত্য ও নির্ভরযোগ্য তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরা। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তা অনুসরণ করা হয়নি বলে তার অভিযোগ।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, প্রকাশিত প্রতিবেদনে যে ভুল তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, তা সংশোধন করা উচিত। তিনি দাবি করেন, যে স্থানে ও যে গুরুত্ব দিয়ে মূল প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে, একইভাবে সংশোধনী প্রকাশ করতে হবে।
তার মতে, ভুল তথ্য দ্রুত সংশোধন না করলে জনমনে বিভ্রান্তি আরও বাড়বে এবং ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এ ঘটনার মাধ্যমে আবারও গণমাধ্যমের দায়িত্বশীলতা ও তথ্য যাচাইয়ের বিষয়টি সামনে এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।
সব মিলিয়ে, তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, তার বিরুদ্ধে আনা অর্থ পাচারের অভিযোগ তিনি সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করছেন এবং বিষয়টি আইনগতভাবে মোকাবিলা করবেন।