
আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় হেরাত প্রদেশে নারীদের পোশাকবিধি না মানার অভিযোগে গ্রেপ্তার ও আটকের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। একই সঙ্গে তারা তালেবান কর্তৃপক্ষকে সব মানুষের প্রতি সমান আচরণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
আফগানিস্তানে জাতিসংঘ সহায়তা মিশন UNAMA জানিয়েছে, হেরাতে নারীদের আটকের ঘটনাগুলো মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি করেছে। সংস্থাটির মতে, এসব ঘটনা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড লঙ্ঘনের শঙ্কা সৃষ্টি করছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে অন্তত ২১ জন নারী ও কিশোরীকে আটক করা হয়েছে। তবে এই বিষয়ে আফগান কর্তৃপক্ষ বা তালেবান প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা Taliban সম্প্রতি একটি নির্দেশনা জারি করেছে, যেখানে নারীদের জনসমক্ষে “যথাযথ হিজাব” মেনে চলা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২১ সালে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই তালেবান প্রশাসন নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণে একাধিক কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে আসছে। এসব নীতির কারণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনা ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
জাতিসংঘের মতে, নারীদের উপর ধারাবাহিক এই বিধিনিষেধ আফগান সমাজে দীর্ঘমেয়াদে গুরুতর সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে নারীর অংশগ্রহণ কমে গেলে তা দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে।
এপ্রিলে প্রকাশিত ইউনিসেফের এক প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়, মেয়েদের শিক্ষা ও নারীদের কর্মসংস্থানের ওপর এই বিধিনিষেধ অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে আফগানিস্তান প্রায় ২৫ হাজারের বেশি নারী শিক্ষক ও স্বাস্থ্যকর্মী হারাতে পারে। এতে দেশটির স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থা আরও দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, নারীদের উপর এমন কঠোর নিয়ন্ত্রণ শুধু ব্যক্তিগত স্বাধীনতাকেই সীমিত করছে না, বরং দেশের অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও উন্নয়ন সম্ভাবনাকেও বাধাগ্রস্ত করছে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোও বারবার আফগান প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যাতে নারীদের মৌলিক অধিকার, শিক্ষা ও চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়নি।
সব মিলিয়ে, হেরাত প্রদেশে নারীদের আটকের ঘটনা আফগানিস্তানের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ তৈরি করেছে। জাতিসংঘের আহ্বান সত্ত্বেও পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা এখন বিশ্ব সম্প্রদায়ের নজরে রয়েছে