
রাজধানীর রামপুরা এলাকায় পূর্বনোটিশ ছাড়া চাকরিচ্যুতির অভিযোগে বিক্ষোভে নেমেছেন একটি পোশাক কারখানার কয়েকশ শ্রমিক। সোমবার (৮ জুন) দুপুরের দিকে তারা বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ভবনের সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করেন। এতে মালিবাগ–রামপুরা–বাড্ডা রুটে যান চলাচল আংশিকভাবে বন্ধ হয়ে যায় এবং পুরো এলাকায় তীব্র যানজট দেখা দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শ্রমিকরা হঠাৎ করেই সড়কের একপাশে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। ফলে ব্যস্ততম এই সড়কে যান চলাচল দ্রুত অচল হয়ে পড়ে। গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকায় সাধারণ যাত্রী, পথচারী ও কর্মজীবী মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন।
আন্দোলনরত শ্রমিকরা জানান, “টেক্সাস ড্রেসেস লিমিটেড” নামের একটি পোশাক কারখানা কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা বা শ্রম আইনের নিয়ম অনুসরণ না করেই ১৪৭ জন শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে তারা রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছেন।
শ্রমিকদের অভিযোগ, শুধু চাকরিচ্যুতিই নয়, বকেয়া পাওনাদি পরিশোধের বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ঘোষণা না দিয়েই কর্তৃপক্ষ তাদের কাজ থেকে সরিয়ে দিয়েছে। এতে বহু শ্রমিক হঠাৎ করে জীবিকা হারিয়ে আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
বিক্ষোভ চলাকালে শ্রমিকরা পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেন। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে—ছাঁটাইকৃত ১৪৭ জন শ্রমিককে অবিলম্বে পুনর্বহাল, আন্দোলন দমনে কোনো ধরনের মামলা বা হয়রানি না করা, কারখানার পূর্বের নিয়ম অনুযায়ী উৎপাদন কার্যক্রম চালু রাখা, নিরাপদ ও বৈষম্যহীন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এবং শ্রমিকদের চাকরির স্থায়িত্ব ও আইনি নিশ্চয়তা প্রদান।
আন্দোলনের ফলে সড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হলে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের কর্মকর্তারা শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।
ডিএমপি সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক ঘণ্টা ধরে সড়ক অবরোধ চলার পর শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে শ্রমিকদের একটি প্রতিনিধি দল শ্রম অধিদপ্তরের সঙ্গে আলোচনার জন্য পাঠানো হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ধীরে ধীরে রামপুরা এলাকার যান চলাচল পুনরায় শুরু হয়।
স্থানীয়দের মতে, রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত এই সড়কে শ্রমিক আন্দোলনের কারণে প্রতিদিনের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয় এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বেড়ে যায়। তারা দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের আহ্বান জানান।
অন্যদিকে শ্রমিকদের দাবি, তাদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তারা জানান, প্রশাসন বা কর্তৃপক্ষ যদি দ্রুত সমাধান না দেয়, তাহলে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হতে পারে।
বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও শ্রমিক অসন্তোষ ও মালিকপক্ষের সিদ্ধান্ত ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।