
বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগে বড় ধাক্কা খেল Brazil national football team। ইনজুরির কারণে স্কোয়াড থেকে ছিটকে গেছেন রাইট ব্যাক ওয়েসলি। তবে তার বদলি হিসেবে আরেকজন ডিফেন্ডার না নিয়ে মিডফিল্ডারকে দলে ডেকে চমক দেখিয়েছেন কোচ Carlo Ancelotti। ২৬ সদস্যের স্কোয়াডে ওয়েসলির জায়গায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে মিডফিল্ডার Ederson-কে।
প্রথম দেখায় এই সিদ্ধান্ত অপ্রত্যাশিত মনে হলেও এর পেছনে রয়েছে সুপরিকল্পিত কৌশল। মূলত তিনটি কারণে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আনচেলত্তি।
প্রথমত, স্কোয়াডের গভীরতা। ২৬ সদস্যের বড় স্কোয়াড থাকায় একাধিক পজিশনে বিকল্প রাখা সম্ভব। রাইট ব্যাক পজিশনে Danilo-এর মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড় থাকায় ওয়েসলির অনুপস্থিতি খুব বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়নি।
দ্বিতীয়ত, কৌশলগত বৈচিত্র্য। আনচেলত্তি শুধু পজিশন পূরণ করতে চাননি, বরং পুরো দলের মান বাড়াতে চেয়েছেন। এদেরসন একজন ‘বক্স-টু-বক্স’ মিডফিল্ডার, যিনি আক্রমণ ও রক্ষণ—দুই দিকেই অবদান রাখতে পারেন। ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ, বল কাড়াকাড়ি এবং লিড ধরে রাখার মতো পরিস্থিতিতে তিনি হতে পারেন গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র।
তৃতীয়ত, আধুনিক ফুটবলের পরিবর্তনশীল ধারা। বর্তমান ফুটবলে নির্দিষ্ট পজিশনের বাইরে গিয়ে খেলোয়াড়দের ব্যবহার করা এখন স্বাভাবিক ব্যাপার। প্রয়োজনে Marquinhos বা Gabriel Magalhães-এর মতো সেন্ট্রাল ডিফেন্ডাররা ডানপ্রান্ত সামলাতে পারেন। এমনকি দল চাইলে তিন ডিফেন্ডারের ফর্মেশনেও খেলতে পারে।
ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (Brazilian Football Confederation) জানিয়েছে, ওয়েসলি বাম ঊরুর পেশিতে গুরুতর চোট পেয়েছেন। প্রীতি ম্যাচে ইনজুরির পর পরীক্ষা-নিরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া যায় যে, বিশ্বকাপে তার খেলা সম্ভব নয়।
এদিকে দলের আরেক বড় দুশ্চিন্তার নাম Neymar। কাফ ইনজুরির কারণে তিনি এখনও মাঠের বাইরে এবং প্রথম ম্যাচে তার খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
আগামী ম্যাচে Morocco national football team-এর বিপক্ষে মাঠে নামবে ব্রাজিল। যুক্তরাষ্ট্রের MetLife Stadium-এ অনুষ্ঠিতব্য এই ম্যাচ দিয়েই শুরু হবে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান।
সূচি অনুযায়ী, গ্রুপ পর্বে আরও রয়েছে Haiti national football team এবং Scotland national football team-এর বিপক্ষে ম্যাচ।
সবশেষে বলা যায়, আনচেলত্তির এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি ইনজুরি রিপ্লেসমেন্ট নয়, বরং পুরো দলের কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। ডিফেন্সের ঘাটতি মিডফিল্ড দিয়ে পূরণ করে তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন—আধুনিক ফুটবলে নমনীয়তাই সবচেয়ে বড় শক্তি। এখন দেখার বিষয়, এই সাহসী সিদ্ধান্ত ব্রাজিলকে কতটা সফলতা এনে দিতে পারে।