
পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে পুলিশ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি আন্দোলনকারী গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ৭ জন নিহত এবং কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। সোমবার (৮ জুন) কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কারের দাবিতে সক্রিয় সরকারবিরোধী সংগঠন জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি) সম্প্রতি তাদের আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেয়। এর পরপরই স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।
রাওয়ালকোট শহরের বেসামরিক কমিশনার সরদার ওয়াহিদ জানান, সর্বশেষ সংঘর্ষে ৩ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ৪০ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়, সংঘর্ষে ৪ জন পুলিশ সদস্য নিহত এবং ২৩ জন আহত হয়েছেন।
এ ঘটনায় অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। প্রশাসন ইতোমধ্যে জেএএসি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয় সিল করে দিয়েছে এবং মুজাফফারাবাদসহ বিভিন্ন এলাকায় বড় ধরনের সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
স্থানীয় সাংবাদিকদের বরাতে জানা গেছে, মুজাফফারাবাদে বাজার খোলা থাকলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী টহল জোরদার করেছে। সম্ভাব্য লকডাউন ও বিক্ষোভের আশঙ্কায় স্থানীয়রা আগেভাগেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য মজুত করছেন।
সংগঠনটি তাদের ‘সন্ত্রাসী’ তালিকাভুক্ত করাকে দমননীতি বলে আখ্যা দিয়েছে এবং দাবি করছে, তারা বৈধ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন করছে।
এর আগে গত সপ্তাহে ৭০ জনেরও বেশি সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত সেপ্টেম্বরে একই ধরনের আন্দোলনে কয়েক দিনের সংঘর্ষে নয়জন নিহত হয়েছিল।
কাশ্মীর অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিতর্কিত একটি এলাকা। দুই দেশই পুরো অঞ্চলটির ওপর মালিকানা দাবি করলেও এটি বর্তমানে বিভক্ত প্রশাসনের অধীনে রয়েছে।