
আসন্ন জাতীয় বাজেট ও রাজস্ব নীতি নিয়ে সমালোচনা করেছেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক A K M Waresul Karim। সম্প্রতি একটি গোলটেবিল বৈঠকে তিনি বাজেটের আকার, কর আদায় সক্ষমতা এবং দেশের কর্মসংস্থান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সরকারের উচ্চাকাঙ্ক্ষী রাজস্ব লক্ষ্য পূরণ করতে পারবে না। তার মতে, এনবিআরকে যে পরিমাণ রাজস্ব আদায়ের চাপ দেওয়া হচ্ছে, বাস্তবে তা অর্জন করা কঠিন। ফলে বাজেট ঘাটতি পূরণে সরকারকে অতিরিক্ত ঋণের ওপর নির্ভর করতে হবে, যা অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
অধ্যাপক ওয়ারেসুল করিম আরও বলেন, বাজেটের বর্তমান আকার বাস্তবসম্মত নয় এবং এটি অর্থনৈতিক সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন। তার মতে, অতিরিক্ত বড় বাজেট অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
তিনি দেশের স্বাস্থ্য খাত নিয়েও মন্তব্য করেন। তার দাবি অনুযায়ী, কিছু বেসরকারি হাসপাতালের প্রকৃত রাজস্ব হিসাব স্বচ্ছ নয় এবং এর একটি অংশ যথাযথভাবে কর ব্যবস্থার আওতায় আসে না। ফলে কর আদায় ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে।
কর্মসংস্থান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দেশে প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক শিক্ষিত তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করলেও তাদের জন্য পর্যাপ্ত চাকরির সুযোগ তৈরি হচ্ছে না। বিসিএস বা ব্যাংকিং খাতে সীমিত সংখ্যক নিয়োগের কারণে বড় একটি অংশ কর্মহীন থেকে যাচ্ছে।
তার মতে, দীর্ঘমেয়াদে এই কর্মসংস্থান সংকট সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই শিক্ষা, শিল্প ও শ্রমবাজারের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে বাজেটের আকার, রাজস্ব সংগ্রহ এবং কর্মসংস্থান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি নীতিনির্ধারকদের আরও বাস্তবসম্মত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আহ্বান জানান।