
সাভারের তৈরি পোশাক শিল্প খাতে শ্রমিক ছাঁটাইকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আল-মুসলিম গ্রুপের বিভিন্ন কারখানা থেকে বিপুলসংখ্যক শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করার অভিযোগের পর বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশ। সংগঠনটি দাবি করেছে, ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের পুনর্বহাল করতে হবে অথবা শ্রম আইন অনুযায়ী তাদের প্রাপ্য তিন মাসের বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে হবে।
রোববার (৭ জুন) ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা খলিলুর রহমান এবং সেক্রেটারি জেনারেল কে এম বিল্লাল হোসেন এক যৌথ বিবৃতিতে এ দাবি জানান। তারা বলেন, আল-মুসলিম গ্রুপের তিনটি কারখানা থেকে মোট এক হাজার ৮৬৮ জন শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন।
নেতারা জানান, ঈদের ছুটি শেষে কাজে যোগ দিতে এসে অনেক শ্রমিক তাদের চাকরি হারানোর বিষয়টি জানতে পারেন। এ ধরনের পরিস্থিতিকে তারা অত্যন্ত অমানবিক বলে মন্তব্য করেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানের জন্য কাজ করা শ্রমিকদের প্রতি এমন আচরণ শ্রমিকবান্ধব পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ব্যবসা ও শিল্প প্রতিষ্ঠানে উত্থান-পতন একটি স্বাভাবিক বিষয়। কোনো সময় প্রতিষ্ঠান লাভবান হয়, আবার কোনো সময় সংকটের মুখোমুখিও হতে পারে। তবে প্রতিষ্ঠান যখন মুনাফা করে, তখন শ্রমিকরা সাধারণত অতিরিক্ত সুবিধা পান না। অন্যদিকে আর্থিক বা পরিচালনাগত সংকট দেখা দিলে প্রথম আঘাতটি এসে পড়ে শ্রমিকদের ওপর। ফলে শ্রমিকদের চাকরিচ্যুতির মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আরও মানবিক ও দায়িত্বশীল দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করা প্রয়োজন।
ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের নেতারা আরও বলেন, একটি প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন, সাফল্য ও মুনাফার পেছনে শ্রমিকদের অবদান সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই সাময়িক সংকটের কারণে তাদের কর্মসংস্থান হুমকির মুখে ফেলা উচিত নয়। শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং শিল্প খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে মালিকপক্ষকে আরও সহনশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
সংগঠনটি জোর দিয়ে বলেছে, শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে দেশের প্রচলিত শ্রম আইন যথাযথভাবে অনুসরণ করা আবশ্যক। যদি কোনো কারণে শ্রমিকদের চাকরিতে বহাল রাখা সম্ভব না হয়, তাহলে আইন অনুযায়ী তাদের সকল প্রাপ্য সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে তিন মাসের বেতন-ভাতা এবং অন্যান্য আর্থিক পাওনা দ্রুত পরিশোধের দাবি জানিয়েছে তারা।
বিবৃতিতে শ্রমিকদের পুনর্বহালের আহ্বানের পাশাপাশি শিল্প খাতে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। নেতাদের মতে, মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় থাকলে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পায় এবং শিল্প খাত আরও শক্তিশালী হয়। অন্যদিকে শ্রমিক অসন্তোষ বা অনিশ্চয়তা তৈরি হলে তা পুরো শিল্প ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশ মনে করে, বর্তমান পরিস্থিতিতে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা সবচেয়ে কার্যকর পথ। শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা এবং মালিকপক্ষের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানো জরুরি। একই সঙ্গে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য।