
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ঝটিকা মিছিল করেছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। রবিবার (৭ জুন) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার মাটিয়ারা এলাকায় এই আকস্মিক বিক্ষোভ মিছিলের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অন্তত ৪৫ জন নেতাকর্মীকে আটক করে এবং তিনটি হায়েস গাড়ি ও দুটি মিনিবাস জব্দ করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশের মাটিয়ারা এলাকায় চট্টগ্রামমুখী লেনে হঠাৎ করেই একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটির নেতৃত্বে ছিলেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইসরাফিল পিয়াস। মিছিল চলাকালে এলাকায় কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়রা জানান, মিছিল শুরু হওয়ার পরপরই পরিস্থিতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং মহাসড়কে যান চলাচলে কিছুটা বিঘ্ন ঘটে। এ সময় খবর পেয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মিছিলকারীদের ধাওয়া দিলে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এরপর পরিস্থিতি আরও নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ অভিযান শুরু করে।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে ৪৫ জনের মতো নেতাকর্মীকে আটক করে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে তিনটি হায়েস গাড়ি ও দুটি মিনিবাস জব্দ করা হয়, যেগুলো মিছিলে ব্যবহৃত হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, আটকদের পরিচয় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনার পেছনে কারা সংগঠিত ছিল এবং কী উদ্দেশ্যে এই মিছিল করা হয়েছে, তা তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হঠাৎ করে মহাসড়কে এমন বিক্ষোভ মিছিল ও পরবর্তী সংঘর্ষের পরিস্থিতি এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। কিছু সময়ের জন্য সাধারণ যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং স্থানীয় দোকানপাটে উদ্বেগ দেখা দেয়।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে ৪৫ থেকে ৪৬ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মহাসড়কে অননুমোদিত রাজনৈতিক কার্যক্রম ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার মতো কোনো কর্মকাণ্ড বরদাস্ত করা হবে না। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি না হয়, সে জন্য গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। প্রশাসন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিচ্ছে।