
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার নাটাই উত্তর ইউনিয়নের থলিয়ারা গ্রামে জমি ও দোকানের জায়গা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শুরু হওয়া এ সংঘর্ষ চলে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে। এতে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন এবং বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রামটির মিন্দার আলী (ছোট গোষ্ঠী) ও বাদৈর বাড়ি (বড় গোষ্ঠী) পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দোকানের জায়গা নিয়ে বিরোধ চলছিল। ছোট গোষ্ঠীর জুবায়ের এবং বড় গোষ্ঠীর জয়নাল মিয়ার মধ্যে এ বিরোধ আরও তীব্র আকার ধারণ করে। দোকানটি ছোট গোষ্ঠীর শিরু মিয়া পরিচালনা করে আসছিলেন।
স্থানীয়ভাবে এ বিরোধ মীমাংসার জন্য গ্রাম্য সালিশ অনুষ্ঠিত হয়। সালিশে দোকানটি উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছে যায়। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করেই রবিবার সকালে দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। দুই পক্ষই লাঠি, দা ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে একে অপরকে আক্রমণ করে। এতে অন্তত ২০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সংঘর্ষ চলাকালে বাড়িঘর ও দোকানপাট ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কে এলাকা ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যান। অনেক দোকান বন্ধ হয়ে যায় এবং স্বাভাবিক জনজীবন থমকে যায়।
পুলিশ খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপরও হামলার চেষ্টা করা হয় বলে জানা গেছে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কোনো পক্ষ অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
এ ঘটনায় এলাকায় এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত স্থায়ী সমাধান ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের সংঘর্ষ আর না ঘটে।