
ভারতের বিভিন্ন জাতীয় পর্যায়ের পরীক্ষা ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে তরুণদের সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সংগঠনটির পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করা হয়েছে এবং সেই দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
রোববার (৭ জুন) মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগর জেলার এমআইডিসি ওয়ালুজ এলাকায় নিজ বাসভবনে পৌঁছানোর পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। এ সময় তিনি বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে এবং তারা কোনোভাবেই পিছু হটবেন না।
অভিজিৎ দীপকের দাবি, সম্প্রতি নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। তার ভাষ্যমতে, ওই কর্মসূচিতে প্রায় ছয় থেকে সাত হাজার মানুষ অংশ নিয়েছেন। তিনি আন্দোলনকে সফল বলে উল্লেখ করে জানান, শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তাদের এই কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।
সংগঠনটির অভিযোগ, বিভিন্ন জাতীয় পরীক্ষা এবং নিয়োগ কার্যক্রমে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও স্বজনপ্রীতির মতো অভিযোগ উঠে আসছে। এসব ঘটনার কারণে লাখো শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলে দাবি করেন আন্দোলনকারীরা।
দীপকে বলেন, আন্দোলনের পরবর্তী ধাপ হিসেবে এটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে এবং সাধারণ শিক্ষার্থী, চাকরিপ্রত্যাশী ও তরুণদের আরও বড় পরিসরে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
শনিবার রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির ব্যানারে শত শত বিক্ষোভকারী সমবেত হন। তারা বিভিন্ন পরীক্ষা ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার অনিয়মের অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন। বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে অভিজিৎ দীপকে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান এবং ভয়ভীতি উপেক্ষা করে নিজেদের দাবিতে অটল থাকার কথা বলেন।
পরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মুখপাত্ররা জানান, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অপসারণ অথবা তার স্বেচ্ছা পদত্যাগের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হবে। এই সময়ের মধ্যে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে দেশব্যাপী বৃহত্তর আন্দোলন শুরু করা হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শিক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে উদ্বেগ রয়েছে, এই আন্দোলন সেই অসন্তোষেরই বহিঃপ্রকাশ। তবে সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আন্দোলনের দাবিগুলোর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
আগামী কয়েক দিনের মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থান এবং আন্দোলনকারীদের নতুন কর্মসূচি পরিস্থিতিকে কোন দিকে নিয়ে যায়, সেদিকেই নজর থাকবে দেশজুড়ে।