
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও বাজেট অধিবেশন শুরু হয়েছে। রবিবার (৭ জুন) বিকেল ৩টায় সংসদ ভবনে অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
অধিবেশন শুরুর শুরুতেই স্পিকার সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, সংসদকে “খুব কালারফুল” দেখাচ্ছে। তার এই মন্তব্য সংসদে এক ধরনের স্বতঃস্ফূর্ত পরিবেশ তৈরি করে। তিনি আরও বলেন, নারী সদস্যদের উপস্থিতিতে সংসদ আজ পূর্ণতা পেয়েছে, যা তিনি স্বাগত জানান।
স্পিকার নারী সংসদ সদস্যদের অভিনন্দন জানান এবং তাদের অংশগ্রহণকে সংসদীয় কার্যক্রমের জন্য ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেন। এরপর তিনি সংসদীয় কার্যক্রমের অংশ হিসেবে একজন সংসদ সদস্যকে মোনাজাত পরিচালনার জন্য আহ্বান জানান।
এটি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন হলেও এটি একই সঙ্গে বাজেট অধিবেশন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গত নির্বাচনের পর এটি সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশন, যা জাতীয় অর্থনৈতিক পরিকল্পনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আগামী ১১ জুন অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে। বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এই বাজেটের মাধ্যমে দেশের আগামী অর্থবছরের রাজস্ব, ব্যয় এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা নির্ধারণ করা হবে।
সংসদ অধিবেশনকে কেন্দ্র করে সরকারি ও বিরোধী উভয় পক্ষের সংসদ সদস্যদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। বাজেট অধিবেশন হওয়ায় অর্থনৈতিক নীতি, উন্নয়ন পরিকল্পনা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং বিভিন্ন খাতের বরাদ্দ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অধিবেশন শুরুর আগে সংসদ সচিবালয় ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দপ্তরগুলোতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়। বাজেট উপস্থাপনের দিন সংসদে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানা গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বাজেট অধিবেশন সরকারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও অগ্রাধিকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন হবে। বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক ঋণ, উন্নয়ন ব্যয় এবং সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ—এসব বিষয় সংসদে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে।
সব মিলিয়ে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এই বাজেট অধিবেশনকে দেশের অর্থনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্ব হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগামী ১১ জুন বাজেট উপস্থাপনের পর সংসদে বিস্তারিত আলোচনা শুরু হবে।