
এ বছর রাষ্ট্রীয়ভাবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস ২০২৬ উদযাপনের জন্য সরকার ব্যাপক ও সমন্বিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদা ও বিস্তৃত আয়োজনের মাধ্যমে পালনের লক্ষ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর, সংস্থা এবং মাঠ প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এই নির্দেশনা পাঠিয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার কার্যবিবরণী ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান ও দপ্তরে পাঠানো হয়েছে এবং সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দিবসটি জাতীয় পর্যায়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে উদযাপনের জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সভার কার্যবিবরণী অনুযায়ী, সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে মাঠ প্রশাসন পর্যন্ত সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এই কার্যক্রম বাস্তবায়নে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, উপজেলা প্রশাসনসহ প্রায় সব সরকারি প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, তিন বাহিনীর প্রধান এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও সচিবদের কাছে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপি, কোস্ট গার্ড, এনএসআই, ডিজিএফআই এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার, তথ্য অধিদপ্তর এবং গণযোগাযোগ অধিদপ্তরকে বিশেষ প্রচার কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসের তাৎপর্য ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব জনগণের কাছে তুলে ধরা হবে।
জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোকচিত্র প্রদর্শনী এবং বিশেষ প্রকাশনার আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থাপনায় আলোকসজ্জা এবং গণসচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণের বিষয়টিও কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মাঠ প্রশাসনের অংশ হিসেবে দেশের সব বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পুলিশ সুপার এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছে নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। ফলে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও সমন্বিতভাবে দিবসটি উদযাপন করা হবে।
এছাড়া শিক্ষা, সংস্কৃতি, যুব ও ক্রীড়া, স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য, কৃষি, পরিবহন, ধর্ম, সমাজকল্যাণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, মহিলা ও শিশুবিষয়ক, প্রবাসী কল্যাণ, পরিবেশ, বাণিজ্য এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
জাতীয় পর্যায়ের পাশাপাশি বিভিন্ন খাতভিত্তিক বিশেষ আয়োজনের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল, মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, বাংলাদেশ স্কাউটস, বিএনসিসি এবং মুক্তিযোদ্ধা সংসদকে কার্যক্রমে যুক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসকে জাতীয় মর্যাদায় উদযাপনের মাধ্যমে এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব নতুনভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে প্রস্তুতি সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।