
দক্ষিণ গাজা উপত্যকায় পরিচালিত এক বিমান হামলায় হামাসের এক কমান্ডার নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তি সাকর আবু করিম হামাসের নুখবা ইউনিটের একটি সেলের কমান্ডার ছিলেন।
এ বিষয়ে বার্তা সংস্থা আলজাজিরা জানিয়েছে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী রবিবার টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দাবি করে যে গত মঙ্গলবার দক্ষিণ গাজায় চালানো এক নির্দিষ্ট বিমান হামলায় সাকর আবু করিম নিহত হন।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, সাকর আবু করিম ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের কিসুফিম এলাকায় সংঘটিত হামলায় অংশ নেওয়া যোদ্ধাদের মধ্যে ছিলেন। সেই হামলাকে কেন্দ্র করেই পরবর্তীতে গাজা যুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধি পায় এবং অঞ্চলজুড়ে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত শুরু হয়।
ইসরায়েল আরও দাবি করেছে, একই হামলায় হামাসের আরেকজন সদস্যও নিহত হয়েছেন। ওই ব্যক্তিকে সংগঠনটির ‘যোগাযোগ অপারেটিভ’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো যাচাই এখনো নিশ্চিতভাবে পাওয়া যায়নি।
গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী হামাসের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে আসছে। বিমান হামলা, স্থল অভিযান এবং লক্ষ্যভিত্তিক আক্রমণের মাধ্যমে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের নির্মূল করার চেষ্টা চলছে বলে দাবি করা হয়।
অন্যদিকে হামাসের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এসব সামরিক অভিযানে শুধু যোদ্ধাই নয়, বিপুল সংখ্যক বেসামরিক ফিলিস্তিনিও প্রাণ হারাচ্ছেন। এতে গাজার মানবিক পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন হয়ে উঠছে বলে সংগঠনটির দাবি।
দীর্ঘদিনের এই সংঘাত গাজা উপত্যকার অবকাঠামো, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করেছে। নিয়মিত বিমান হামলা ও পাল্টা হামলার কারণে অঞ্চলটি কার্যত এক মানবিক সংকট অঞ্চলে পরিণত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক মহলেও এই সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা বারবার যুদ্ধবিরতি ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানালেও স্থায়ী সমাধান এখনো অধরা।
সর্বশেষ এই হামলার ঘটনায় আবারও গাজায় সহিংসতা বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। বিশেষ করে সামরিক নেতৃত্ব লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা চলতে থাকায় পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে।