
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চল Gaza Strip-এ বাস্তুচ্যুত মানুষের জীবন এখন চরম মানবিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের সংঘাত ও সামরিক অভিযানের কারণে ঘরবাড়ি হারিয়ে প্রায় ১৭ লাখ ফিলিস্তিনি বর্তমানে বিভিন্ন অস্থায়ী আশ্রয় শিবিরে বসবাস করছেন। এসব শিবিরে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং চিকিৎসার পাশাপাশি সবচেয়ে ভয়াবহ সংকটে পরিণত হয়েছে নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন শৌচাগারের অভাব।
দক্ষিণ গাজার বিভিন্ন শিবিরে হাজারো পরিবার টিন, তাবু ও প্লাস্টিকের অস্থায়ী ঘরে বসবাস করছে। কিন্তু এসব স্থানে ন্যূনতম স্যানিটেশন ব্যবস্থাও নেই। ফলে প্রতিদিনই মানুষকে চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে জীবন কাটাতে হচ্ছে। বিশেষ করে নারীদের ও শিশুদের জন্য পরিস্থিতি আরও বেশি কষ্টকর হয়ে উঠেছে।
একটি আশ্রয় শিবিরে বসবাসকারী ৩৮ বছর বয়সী মোস্তফা শাবান নিজের পরিবারের জন্য বাধ্য হয়ে একটি অস্থায়ী শৌচাগার তৈরি করেছেন। গণশৌচাগারের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং গোপনীয়তার অভাব থেকে স্ত্রী ও সন্তানদের রক্ষা করতেই তিনি এই উদ্যোগ নেন। তিনি প্রথমে মাটিতে গর্ত খুঁড়ে তার চারপাশে কিছুটা কংক্রিট ব্যবহার করেন। এরপর একটি প্লাস্টিকের বালতি ও পুরোনো টয়লেট সিট ব্যবহার করে সেটিকে ব্যবহারযোগ্য করার চেষ্টা করেন।
তবে এই অস্থায়ী শৌচাগারও কোনোভাবেই স্বাস্থ্যসম্মত নয়। গর্ত থেকে সবসময় দুর্গন্ধ ছড়ায়, চারপাশে মশা ও মাছির উপদ্রব লেগেই থাকে। শৌচাগারটি পরিবারের ঘুমানোর জায়গা ও রান্নার স্থান থেকে খুব কাছেই হওয়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। নিয়মিতভাবে তাকে গর্ত পরিষ্কার করতে হয়, যা অত্যন্ত কষ্টকর ও অস্বাস্থ্যকর কাজ।
তবুও শাবান মনে করেন, এটি গণশৌচাগারের চেয়ে কিছুটা ভালো। কারণ আশ্রয় শিবিরের সাধারণ শৌচাগারগুলো শত শত মানুষ একসঙ্গে ব্যবহার করে, ফলে সেগুলো অত্যন্ত নোংরা ও ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ে। অনেক সময় দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, যা শিশু ও বয়স্কদের জন্য আরও কঠিন হয়ে যায়।
গাজায় চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে, যার ফলে স্যানিটেশন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অবস্থায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পানিবাহিত রোগ, সংক্রমণ এবং মহামারির ঝুঁকি আরও বাড়বে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে ডায়রিয়া, চর্মরোগ এবং অন্যান্য সংক্রামক রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, গাজায় বর্তমান পরিস্থিতি শুধু একটি স্যানিটেশন সংকট নয়, বরং এটি একটি পূর্ণাঙ্গ মানবিক বিপর্যয়ের অংশ। দীর্ঘমেয়াদী সমাধান ছাড়া এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়। জরুরি ভিত্তিতে নিরাপদ পানীয় জল, অস্থায়ী হলেও স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো বলছে, তারা এখন শুধু বেঁচে থাকার লড়াই করছে। প্রতিদিনের জীবন হয়ে উঠেছে অনিশ্চিত ও কষ্টকর। ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো নিশ্চয়তা নেই, শুধু মানবেতর অবস্থার মধ্যেই দিন কাটছে তাদের।
গাজার এই শৌচাগার সংকট যুদ্ধের ধ্বংসাত্মক প্রভাবের আরেকটি ভয়াবহ দিক হিসেবে সামনে এসেছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলছে।