
যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই আবারও উত্তেজনা বেড়েছে ইসরায়েল ও লেবাননের সীমান্তে। গত ২৪ ঘণ্টায় দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।
সর্বশেষ ঘটনায় উত্তর ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় সতর্কতা সাইরেন বাজতে শুরু করে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আকাশে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং ইসরায়েলি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অন্তত দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। পরিস্থিতি দ্রুতই আতঙ্কে রূপ নেয় সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাসরত সাধারণ মানুষের মধ্যে।
অন্যদিকে দক্ষিণ লেবাননের উপকূলীয় শহর টাইর এলাকায় দিনভর উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করে। স্থানীয়দের মতে, আকাশে নিচু দিয়ে ড্রোন উড়তে দেখা যায় এবং যুদ্ধবিমানও সক্রিয় ছিল। কিছুক্ষণ পর একাধিক এলাকায় বিমান হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। টাইর ও দ্বেইর অঞ্চলে অন্তত চারটি পৃথক হামলার খবর পাওয়া যায়। একই সঙ্গে দূর থেকে গোলন্দাজ বাহিনীর গোলাবর্ষণের শব্দও শোনা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, রাতভর বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ চলেছে, যা এলাকাটিকে কার্যত যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করেছে। দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায় এবং সাধারণ মানুষের চলাচল প্রায় থেমে যায়।
অন্যদিকে হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তারা রাতভর ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীও বিভিন্ন স্থানে সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে বলে জানা গেছে। দুই পক্ষই একে অপরকে হামলার জন্য দায়ী করছে, ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, ৩ জুন যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে যেসব হামলার ঘটনা ঘটেছে, তার অধিকাংশই লেবাননের ভেতরে অবস্থান করা ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছে। যদিও যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে বলে বলা হচ্ছে, বাস্তবে সীমান্ত এলাকায় সহিংসতা থেমে নেই।
দক্ষিণ লেবাননের পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে। ইসরায়েল আগেই ওই অঞ্চলের বহু এলাকা খালি করার নির্দেশ দিয়েছিল, যার ফলে হাজার হাজার মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে গেছে। অনেক শহর ও গ্রাম এখন প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়েছে।
বিশেষ করে টাইর শহরের আশপাশের এলাকা অনেকটা পরিত্যক্ত নগরীর মতো দৃশ্য ধারণ করেছে। ব্যবসা-বাণিজ্য প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে এবং মৌলিক সেবাও ব্যাহত হচ্ছে। একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে নাবাতিয়েহ শহরেও, যেটিকে বর্তমানে সংঘাতের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি কাগজে-কলমে থাকলেও বাস্তব পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। সীমান্তে চলমান হামলা-পাল্টা হামলা একটি বৃহত্তর সংঘাতের দিকে পরিস্থিতিকে ঠেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহল এখনো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
সব মিলিয়ে ইসরায়েল–লেবানন সীমান্তে চলমান এই উত্তেজনা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে পূর্ণমাত্রার সংঘাত পুনরায় ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।