
দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে জাতীয় বাজেটে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি উঠেছে। পরিবেশবাদী, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করেন, সৌর ও বায়ুশক্তির বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও উচ্চ কর, নীতিগত অসামঞ্জস্য এবং অর্থায়নের সীমাবদ্ধতার কারণে বাংলাদেশ কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারছে না।
রাজধানীর গ্রিন লাউঞ্জে অনুষ্ঠিত ‘জ্বালানি নিরাপত্তায় নবায়নযোগ্য উৎস : চাই বাজেটের নীতিগত পরিবর্তন’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা জানান, বর্তমানে দেশে জলবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির মোট স্থাপিত সক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ৬৭৯ মেগাওয়াট। অথচ সৌর ও বায়ুশক্তি থেকে প্রায় ১ লাখ ৩২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।
বক্তাদের মতে, নবায়নযোগ্য জ্বালানি সরঞ্জামের ওপর ২৭ থেকে ৬১ শতাংশ পর্যন্ত কর ও শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, যা এই খাতের বিকাশে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিভিন্ন সুবিধা অব্যাহত থাকলেও সৌর ও বায়ুশক্তির ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত প্রণোদনা নেই। ফলে সাধারণ মানুষ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, প্রতি মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ বছরে প্রায় ৩ কোটি ১১ লাখ টাকার জ্বালানি আমদানি সাশ্রয় করতে পারে। পাশাপাশি এটি বছরে প্রায় ১ হাজার ১৮০ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ কমাতে সক্ষম। এছাড়া ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থাও বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বক্তারা আসন্ন জাতীয় বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানির জন্য কর-শুল্ক কমানো, বিনিয়োগবান্ধব নীতি প্রণয়ন এবং সহজ অর্থায়নের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান। তাদের প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে আগামী ১০ বছরের জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি সরঞ্জামের ওপর কাস্টমস ডিউটি, ভ্যাট ও অগ্রিম করসহ সব ধরনের কর ও শুল্ক প্রতীকী ১ শতাংশে নামিয়ে আনা। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তায় ২৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ আবর্তনশীল তহবিল গঠনেরও দাবি জানানো হয়েছে, যাতে উদ্যোক্তারা স্বল্প সুদে ঋণ পেতে পারেন।